‘চেয়ারম্যানের লোকেরা আমাকে চোর চোর বলে প্রকাশ্যে পিটিয়েছে। চেয়ারম্যান নিজেও আমাকে বেদম পিটিয়েছেন। আমি বারবার বলেছি- কাকা আমি রোজাদার, আমাকে মারবেন না। তারপরও তিনি বা তার লোকজন শোনেন নি। আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে ও গাছের ডালা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে অমানবিকভাবে পিটিয়ে জখম করেছে। আমি দৌঁড়ে পালাতে চেষ্টা করেও পালাতে পারিনি। পরে দৌঁড়ে রাস্তায় একটি চলন্ত অটোরিকশায় লাফ দিয়ে উঠে কোন রকমে জীবন বাঁচিয়েছি। কোনো অন্যায় ছাড়া একজন চেয়ারম্যান নিজে ও তার ভাড়াটে লোক দিয়ে এভাবে মারতে পারেন না।’
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো: খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র দিনমজুরদের জন্য সরকারি বরাদ্দের খাদ্য সহায়তার অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় মারধরের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী যুবক রাকিব বিন কুদ্দুস।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার ছেপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে রাকিব ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের নিকট এমন অভিযোগ করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে বুধবার তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট অভিযোগ দাখিল করেছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।
মারধরের শিকার রাকিব বিন কুদ্দুস গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ছেপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুস সরকারের ছেলে এবং রাজধানীর 'ইউল্যাব' নামক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় অনিয়ম, দুই চেয়ারম্যান বরখাস্ত
সাংবাদিক সম্মেলনে রাকিব আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি এখন চেয়ারম্যানের ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। তিনি যে কোনো সময় আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে পারেন। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানাই- এ ঘটনার যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয়। আমি এ ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করছি।’ লিখিত বক্তব্যে রাকিব আরও বলেন, ‘আমার দোষ আমি প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ন্যায্য পাওনা সরকারি বরাদ্দকৃত ত্রাণ যারা পাইনি তাদের পক্ষে কথা বলেছি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি, এটাই কি আমার অপরাধ?’
এর আগে মারধরের শিকার রাকিব কুদ্দুস দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসানের নিকট গুনাইঘর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ত্রাণ ও মসজিদের তালিকরণের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় মারধর ও প্রাণনাশের ঘটনায় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মৌখিক আবেদন করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গুনাইঘর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার অফিসের সামনে এসে ওই যুবক মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হয়তো কেউ ওই যুবককে রাস্তায় মারধর করে থাকতে পারে। ওই সময় আমি আমার অফিসের ভেতরে ছিলাম। তবে আমার অফিসের সামনে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।’
এ ব্যাপারে দেবিদ্বারের ইউএনও রাকিব হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগ এখনো আমার হাতে আসেনি। পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, ঈদের আগের দিন (২৪ মে) গুনাইঘর ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের অস্থায়ী কার্যালয়ে খাদ্য সহায়তা ছাড়াও মসজিদে অর্থ বরাদ্দের তালিকায় কিছু হতদরিদ্রের নাম না থাকার বিষয়ে রাকিব বিন কুদ্দুস কথা বলায় তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ইত্তেফাক/এমএএম
