গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বাড়ার শঙ্কা

আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ২২:১৪

সীমিতভাবে চালানোর সিদ্ধান্ত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

লকডাউন প্রত্যাহার করে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালানোর সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে এ খাতটিতে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বাড়বে এবং এতে গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুবউদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, করোনা পরিস্থিতির অবনতি সত্ত্বেও সরকার জনজীবন ও অর্থনীতি সচল রাখার প্রয়োজনে অফিস-আদালত চালু করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু গণপরিবহন সীমিত আকারে চালু করার বিষয়টি কীভাবে কার্যকর হবে, তা পরিষ্কার নয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা থাকলেও এটা বাস্তবায়ন করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারণ দীর্ঘদিন গণপরিবহন লকডাউন থাকার কারণে শ্রমিকরা যেমন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তেমনি অনেক গণপরিবহন মালিক রয়েছেন আর্থিক সংকটে। ফলে অধিকাংশ মালিক-শ্রমিক সীমিত গণপরিবহনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাতে চাইবেন। এই সুযোগে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘুষ ও চাঁদা নিয়ে তাদের পরিবহনকে সীমিত পরিবহনের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে। এভাবে প্রকারান্তরে প্রায় সকল পরিবহনই রাস্তায় চলবে এবং ব্যাপক চাঁদাবাজির ক্ষেত্র তৈরি হবে।

অপরদিকে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি শেষে বহুসংখ্যক মানুষ জীবনের তাগিদে একসঙ্গে রাস্তায় নামবেন। এ অবস্থায় সড়কে গণপরিবহনের স্বল্পতা থাকলে মানুষ হুড়োহুড়ি-গাদাগাদি করে গাড়িতে উঠবেন, ওঠার চেষ্টা করবেন। এতে মানুষের দুর্ভোগ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছবে, স্বাস্থ্যবিধি বলে কিছু থাকবে না। এছাড়া পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করবেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবহনই স্বল্প যাত্রী বহন করবে না, স্বাস্থ্যবিধিও মানবে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ অর্ধেক সীটে যাত্রীবহনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে দুর্নীতি এবং মানুষের দুর্গতি উভয়ই বাড়বে। আমরা মনে করি, সীমিত নয় বরং রেলের স্বাভাবিক যাত্রীসেবা বহাল রেখে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আরো বাড়তি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে প্রচলিত রোটেশন ব্যবস্থা তুলে দিয়ে আবহাওয়া বিবেচনায় রেখে দিনে-রাতে পর্যাপ্তসংখ্যক নৌযান চালানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে এবং তারা ভিড় এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করতে পারবেন। এই বাস্তবতায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ সব ধরনের গণপরিবহন পুরোপুরি চালু করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।