করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সেই অর্থে কমে না গেলেও বিশ্বের অনেক দেশই লকডাউন প্রত্যাহার করে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনের পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। লকডাউন প্রত্যাহার হলেও মানুষের মন থেকে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের ভয় পুরোপুরি কেটে যায়নি। বলা যায়, মানুষের অবচেতন মনেও জায়গা করে নিয়েছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়। তাই লকডাউন উঠে গেলেও মানুষের সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষই মনে মনে চায় যে লকডাউন অব্যাহত থাকুক। মূলত লকডাউন পরবর্তী জীবনে ফেরার ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় এবং আগে থেকে দানা বাধা উদ্বেগ আর অস্থিরতাই এর প্রধান কারণ।
যুক্তরাজ্যের একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার গুডউইন-ফি লকডাউন মানুষের মনের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে তা নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখেছেন, লকডাউন পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এটি মনের ওপর অনেক দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক হতে সপ্তাহ, মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। একটা জীবনধারার মধ্যে হঠাত্ করে লকডাউনের মধ্যে চ্যালেঞ্জিং এবং পীড়াদায়ক এক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে দীর্ঘদিন মানুষকে। এতে করে লকডাউন পরবর্তী সময়ে সবার সঙ্গে আগের মতো সামাজিক সম্পর্কে ফেরার ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই অনিশ্চয়তা, ভয় এবং দ্বিধার জন্ম নেবে। দীর্ঘদিন লকডাউনের মধ্যে থাকায় অনেকেই হয়তো তার স্বাভাবিক জীবনের লক্ষ্য থেকেও বিচ্যুত হতে পারেন। আগের চিন্তাধারার বদলে নতুন করে ভাবতে শুরু করতে পারেন।
এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষদের প্রতি ক্লেয়ার গুডউইন পরামর্শ হচ্ছে—বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। এটিকে সার্বজনীন বিষয় হিসেবে চিন্তা করতে হবে। মনে করতে হবে—এটা সবার জন্য প্রযোজ্য; এতে আরো ১০ জনের যা হবে আমারও তা হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং সেটাই হবে সেরা পছন্দ। সামাজিক দূরত্বের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ক্লেয়ার গুডউইন মনে করেন, লকডাউন পরবর্তী জীবনে এগিয়ে যেতে হলে প্রত্যেকের মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। লকডাউনে যাদের মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা মানসিক প্রস্তুতি ছাড়া নতুন ব্যবস্থায় ফিরতে গেলে নানা রকম সমস্যার মুখেও পড়তে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, করোনা দুর্যোগের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই নিজের জীবন নিয়ে সংশয়ে আছে। সেই সঙ্গে প্রিয়জনকে হারানোর ভয়, চাকরি হারানোর ভয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা সব কিছু মিলিয়ে লকডাউন মানুষের জীবনে নেতিবাচক এক ছবি এঁকে দিয়ে গেছে। হঠাত্ করে সেই অবস্থা থেকে বের হওয়াটা তাই সত্যিই কঠিন বিষয়। লকডাউন পরবর্তী জীবনে আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষের মধ্যেই উদ্বেগ উত্কণ্ঠা আর ভয় বিরাজ করবে বলেও তার বিশ্বাস; কারণ লকডাউন প্রত্যাহার বলেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিন্তু শেষ হয়ে যাচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে অনেক মানুষই হয়তো লকডাউন পরবর্তী জীবনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। এর কারণেই অনেকেই মনে মনে চাইছেন লকডাউন অব্যাহত থাকুক।—ডেইলি মেইল
