করোনার প্রভাবে স্থবির হয়ে থাকা অর্থনীতিতে গতি আনতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে আনার পথ সহজ করার কথা ভাবছে সরকার। বর্তমানে কয়েকটি খাতে শর্তসাপেক্ষে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রযোজ্য কর ও এর ওপর ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে এ ধরনের অর্থ বৈধ করার সুযোগ রয়েছে। আগামী বাজেটে সরকার এ নিয়ম সহজ করে কেবল ১০ শতাংশ কর পরিশোধ সাপেক্ষে ঐ অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১১ জুনের বাজেটে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ ধরনের অর্থ বিনিয়োগে আনার প্রস্তাব দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। মূলত করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে থাকা অর্থনীতিতে গতি আনতে সরকার এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। বর্তমানে অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রয়েছে। একই সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফাইন্যান্স ফান্ডের (বিআইএফএফ) অধীনে বন্ড ক্রয়ের ক্ষেত্রেও। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আবাসন খাতে (ফ্ল্যাট, প্লট ক্রয়) বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিমাণ কর পরিশোধে এ সুযোগ দিয়েছে সরকার। এর বাইরে যে কোনো ব্যক্তি প্রযোজ্য কর পরিশোধ করে ঐ করের ওপর আরো ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারেন।
ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে বর্তমানে করহার ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ। বছরে আয় ৪৫ লাখ টাকা পার হলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ করহার অর্থাত্ ৩০ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হবে। ধরা যাক কেউ তার অপ্রদর্শিত আয়ের ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আনবেন। সরকার জরিমানা ছাড়া ১০ শতাংশ কর পরিশোধের প্রস্তাব দিলে সেক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, তাকে কর দিতে হবে ১০ কোটি টাকা। অথচ যিনি নিয়ম মেনে কর দিচ্ছেন (অপ্রদর্শিত নয়), তাকে পরিশোধ করতে হবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
অবশ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে আনার সুযোগ থাকলেও তা শর্তহীন না হওয়ায় অতীতে এক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। কেননা বিনিয়োগকৃত অর্থ নিয়ে আয়কর বিভাগ প্রশ্ন না করলেও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) অন্যান্য বিভাগের প্রশ্ন রাখার সুযোগ রয়েছে। অতীতে বিনিয়োগ করে অনেকে এমন প্রশ্নের মুখে পড়াসহ হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে সরকার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও হয়রানি এড়াতে অনেকে বিনিয়োগে না আনায় বিশাল পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থের খুব সামান্যই অর্থনীতির মূল স্রোতে এসেছে।
অন্যদিকে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সুযোগ দেওয়ার ফলে মানুষ নিয়ম মেনে কর প্রদানে নিরুত্সাহিত হন।
