এক দিনে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার রোগী শনাক্ত

আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ২২:৫২

একদিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫২৩ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের মধ্য দিয়ে দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪২ হাজার ৮৪৪ জন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আরো ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৮২ জন। সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরো ৫৯০ জন। সব মিলে এ পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ১৫ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা শুক্রবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত একদিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, চার জন নারী। এই ২৩ জনের মধ্যে এক জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া দুই জনের বয়স ছিল ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ছয় জনের বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, পাঁচ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, পাঁচ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দুই জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, এক জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং এক জনের বয়স ছিল ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৯৮২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৪৯টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয় ১১ হাজার ৩০১টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা  পরীক্ষা করা হলো ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭টি। নতুন মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভা?গের নয় জ?ন, রংপু?র বিভাগের দুই জন, সি?লে?ট বিভাগের এক জন এবং ব?রিশা?ল বিভাগের এক জন রয়েছেন। এলাকাভেদে ঢাকা শহরে চার জন, ঢাকা জেলায় এক জন, নারায়ণগঞ্জে দুই জন, মুন্সীগঞ্জে এক জন, মানিকগঞ্জে এক জন, কিশোরগঞ্জে এক জন, চট্টগ্রাম শহরে ছয় জন, কুমিল্লায় এক জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জন, ফেনীতে এক জন, রংপুরে দুই জন, সিলেটে এক জন ও ভোলায় এক জন মারা গেছেন।

গত বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন মারা গেছেন। ৯ হাজার ৩১০টি নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরো ২ হাজার ২৯ জনের দেহে, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সেই হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যাও যেমন বেড়েছে, তেমনি শনাক্তের সংখ্যা হয়েছে নতুন রেকর্ড। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ২৮ জনের।

শুক্রবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৩২৮ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৫ হাজার ১৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৭২ জন এবং এ পর্যন্ত ছায় পেয়েছেন ২ হাজার ৮১০ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৭ হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ৬ হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৯০০ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার পাঁচ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৯১৮ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৭০ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬০ হাজার ২৭৫ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে সেবা দেওয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে।