বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। একদিকে এই সংক্রমণে মৃত্যু ও আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান তো দিচ্ছেই না, অন্যদিকে এই ভাইরাসকে বিনা বাধায় ঝাঁক বেঁধে আক্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির অফিসে এক ভিডিও কনফারেন্সে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, যেহেতু রাতের নির্বাচনে গঠিত বর্তমান সরকার, তাই জনগণের ভাবনাকে তারা আমলে না নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সিদ্ধান্ত জনগণের অনুকূলে হবে না এটাই স্বাভাবিক। তারা নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থে জনগণের জীবনবিনাশী সিদ্ধান্ত নিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ছুটি প্রত্যাহার করে করোনা ভাইরাসকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। রিজভী বলেন, যেভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছে, সরকারের উচিত ছিল প্রতিটি জেলা-উপজেলায় করোনা টেস্ট ফ্যাসিলিটিজ নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটি না করে অফিস-আদালত, গণপরিবহন চালু করা যেন মৃত্যুর মিছিলকেই আলিঙ্গন করা। মানুষের জীবন বাঁচাতে যখন লকডাউন, আইসোলেশন ও ঘরবন্দি থাকার কথা তখনই মৃত্যুদূত করোনাকে আমন্ত্রণ জানাতে জানালা-দরজা খুলে দিয়েছে সরকার। জীবনকে তুচ্ছ করে মানুষকে কর্মে লাগাতে চায় সরকার। স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই নেই বাংলাদেশে। বাংলাদেশে তুরস্কের একজন নাগরিক পরিবারসহ করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তুরস্ক সরকার নিজ দেশে নিয়ে গেছে। এখানে ঐ তুরস্কের নাগরিক করোনা টেস্ট পর্যন্ত করাতে পারেনি। সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই চিকিত্সা না পেয়ে সবাই সিএমএইচের দিকে ছুটছে।
রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের প্রতিদিন নিয়মিত বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেই বেশি উত্সাহিত মনে হচ্ছে। প্রতিদিন বিএনপির কোনো না কোনো নেতাকে গুম অথবা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে যাতে কেউ এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও মত প্রকাশ করতে না পারে এ জন্যও চলছে গুম, হয়রানি ও জেল-জুলুম। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে।
