তিন বছরেও সংস্কার হয়নি বোয়ালি সেতু

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২১:৩২

গাইবান্ধা-কালিরবাজার সড়ক

বাঁশের মাচায় ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা-কালিরবাজার সড়কের গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি এলাকার এলজিইডির আওতাধীন সেতুটি প্রায় তিন বছর ধরে বিধ্বস্ত হয়ে আছে। সাময়িক চলাচলের জন্য সেই বিধ্বস্ত সেতুর স্থলে বাঁশের মাচা দেওয়া হয়েছে। সেটিও দুই পাশে ভেঙে গেছে। ফলে গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই রাতে ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে সেই সময় ঐ পানির স্রোতে এই সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। পরে ২০১৮ সালের জুন মাসে ক্ষতিগ্রস্ত এই সেতুর পাশে একটি বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের বোয়ালি গ্রামের স্কুলশিক্ষক আবদুস সোবহান বলেন, সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ায় যানবাহন চলাচল তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এখন মাচার ওপর দিয়ে শুধু মানুষ, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল কোনোমতো চলাচল করতে পারছে। তার পরও বর্তমানে মাচাটির দুই পাশে বিধ্বস্ত হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই জেলা শহর থেকে মালামাল পরিবহন করতে পারছি না। বাঁশের মাচার বাঁধনগুলো ঢিলা হয়ে গেছে। মাচাতে মালবোঝাই ভ্যান উঠলে ভেঙে যাওয়ার আতঙ্কে থাকি।  বোয়ালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজেদ উদ্দিন খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর পাশে তৈরি করা বাঁশের মাচা দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার মানুষদের। ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, ঐ সড়কটি দিয়ে আমার উপজেলার অসংখ্য মানুষ জেলা শহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু তার পরও এখানে নতুন সেতু নির্মাণে গাফিলতি করা হচ্ছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাত মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে এখানে একটি নতুন সেতু তৈরির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে সেতু নির্মাণ করা হবে।