মাঠের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২২:৩৯

করোনা চিকিত্সা ব্যবস্থায় লকডাউনের ৮০ দিন গতকাল শেষ হয়েছে। আজ রবিবার থেকে দেশে ভিন্ন দৃশ্য সৃষ্টি হবে। একদিকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে শিথিল লকডাউন—এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সাধারণ ছুটি, চালু হচ্ছে গণপরিবহন। এরপরে কি? বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল করার আগে করোনা চিকিত্সা ব্যবস্থায় যা যা করার প্রয়োজন সবই করে রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশ করোনা চিকিত্সায় যা প্রয়োজন তা থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে। তিন মাস সময় পেলেও এক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি আসেনি। করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের বিস্তর ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির অনেক প্রস্তাবই বাস্তবায়ন হয়নি। হাসপাতালগুলোতে হাইপো-অক্সিজেনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছিল জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি। যা করোনা রোগীদের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। কিন্তু বিষয়টি মোটেও গুরুত্ব দেয়নি মন্ত্রণালয়।

এদিকে ৮০ দিন লকডাউনের মধ্যে সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন হয়েছে। অচেনা এই ঈদের আগেও ঢল ছিল বাড়ি ফেরায়। এই ঈদটা বাড়িতে থাকার কথা থাকলেও অনেকেই রাখেননি সেই কথা। ঈদের পরেও ঢাকা ফেরায় মানুষের ঢল নামে। এখনো যা অব্যাহত আছে। লকডাউনের মধ্যেই মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে। মানেনি সামাজিক দূরত্ব। এখন লকডাউন শিথিল করার পরিপ্রেক্ষিতে সবাই স্বাভাবিক জীবনের মতো চলাফেরা করবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের করোনা পরিস্থিতির কী অবস্থা হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, এখন সবার নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। আর নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থে সবারই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজন হাইফ্লো-অক্সিজেন। বাংলাদেশে সিএমএইচ ছাড়া আর কোথাও হাইফ্লো-অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশেই হাসপাতালগুলোতে এখন চালু আছে হাইফ্লো-অক্সিজেন। এটা একটা ডিভাইস। আর আমাদের দেশে আছে ভেন্টিলেশন। অথচ ভেন্টিলেশনে ১০ জনে একজন বাঁচে। মৃত্যুর হার বেশি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, অর্থনীতি সচল রাখাসহ বিভিন্ন কারণে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। এই অবস্থায় দেশের করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা আগামী সাত দিনের মধ্যে বোঝা যাবে। তিনি বলেন, নিজের সুরক্ষা নিজেকে করতে হবে। শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এতে নিজের পাশাপাশি পরিবার ও অন্যরা নিরাপদে থাকবে। ঈদের আগে ঢাকা থেকে মানুষের গ্রামে যাওয়া এবং ঈদের পর গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পরিপ্রেক্ষিতে করোনা ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাইফ্লো-অক্সিজেন। জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে বারবার বলেছে। কিন্তু গুরুত্ব দেয়নি। তিনি বলেন, সামনে লকডাউন শিথিল করায় মানুষ স্বাভাবিক জীবনের মতো থাকবে। সারা বিশ্ব লকডাউন শিথিল করেছে ঠিকই। কিন্তু তারা এই সময়ের মধ্যে করোনা চিকিত্সায় যা যা দরকার তার সবই করেছে। এ কারণে লকডাউন শিথিল করেছে তারা। যাতে করোনা রোগীদের সুচিকিত্সা নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু আমরা দীর্ঘ সময় পেয়েও করতে পারিনি। তিনি বলেন, এখন নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্টের সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক বলেন, হাসপাতালগুলোতে আইসিইউতে হাইফ্লো-অক্সিজেন দরকার। এছাড়া হেপাফিল্টার ও নেগেটিভ প্রেসার প্রয়োজন। যা দিয়ে আইসিইউয়ের পুরো এরিয়া জীবাণুমুক্ত করা যায়। এতে রোগী থেকে অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে সেই ব্যবস্থা নেই। তিন মাস সময় পেয়েও আমরা এই ব্যবস্থা চালু করতে পারিনি। তিনি বলেন, সামনে খারাপ অবস্থা আসছে। সারা বিশ্ব ইতিমধ্যে করোনা চিকিত্সায় যা যা দরকার তা করে ফেলেছে। সারা বিশ্ব চিকিত্সা ব্যবস্থায় আপডেট থাকলেও আমরা পিছিয়ে আছি।