ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ও ঋণ পেতে গুলির ঘটনায় টিআইবির উদ্বেগ

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২২:৪২

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও আইনের শাসনের স্বার্থে এখনই লাগাম টেনে ধরার জোরালো দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সম্প্রতি একটি বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়হীন ‘গাফিলতি’ এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে ঋণ সুবিধা আদায়ের জন্য গুলি করার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের এয়ার-অ্যাম্বুলেন্সে দেশ ছাড়তে পারার মতো ঘটনাকে ব্যবসায়িক দুর্বৃত্তায়ন বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলছে, বহুল আলোচিত এই দুই ঘটনার পাশাপাশি আসন্ন বাজেটে পাচারকৃত অর্থসহ কালো টাকাকে বৈধতা প্রদানের সুবিধা আরো বিস্তৃত করার যে পরিকল্পনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে এমন আশঙ্কা করাটা অমূলক হবে না যে, অনৈতিক ব্যবসায়িক চর্চাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে অবিলম্বে ব্যবসায় খাতের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউনাইটেড হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ জন চিকিত্সাধীন রোগীর প্রাণহানির ঘটনার বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, যে আইসোলেশন ইউনিটে আগুন ধরেছিল সেখানে দাহ্য পদার্থ নির্মাণসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রগুলো ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়া নিহতরা সবাই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন দাবি তাদের স্বজন ও বিশেষজ্ঞরা নাকচ করে দিয়েছেন। মালিক পক্ষের এমন ‘বিভ্রান্তিকর আচরণ’ এবং কোনো প্রকার দায় স্বীকারে ব্যর্থতা অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য। এমতাবস্থায় ঘটনার তদন্তে যে কমিটি করা হয়েছে, তারা যে-কোনো ধরনের প্রভাব উপেক্ষা করে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন দেবেন, এবং তাতে যদি ‘অপরাধমূলক গাফিলতির’ প্রমাণ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণসহ আইনের কঠোরতম প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ‘সেবার’ বিষয়টি কেবল সাইনবোর্ড সর্বস্ব হবে, আর ব্যবসায়িক লাভের বিবেচনার কাছে চিকিত্সাপ্রার্থী হেরে যাবেন, গাফিলতির কারণে তাদের প্রাণ যাবে—এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না।