ইউনাইটেডে আগুন

‘আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী’

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২২:৪৮

 ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী। এটা একটা খুন এবং আমি এর বিচার চাই। আমার স্বামী শয্যাশায়ী থাকার মতো অসুস্থ ছিলেন না। অগ্নিকাণ্ডের সময় আমার স্বামী নিজে ছাড়াও আরো আহত একজনকে নিয়ে বের হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু সেখানে এমন কিছু দাহ্য পদার্থ কিংবা বের হওয়ার পথ বন্ধ ছিল বলেই তার মৃত্যু হয়েছে।’ রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে গত বুধবারের অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ জনের একজন রিয়াজ উল আলম লিটন। তার স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার গতকাল শনিবার এই অভিযোগ করেছেন। 

এদিকে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাধারণ রোগীরা নানা ধরনের অভিযোগ করছেন। সর্বশেষ গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত এপ্রিলে মুমূর্ষু রোগীর লাইফ সাপোর্ট খুলে ছাড়পত্র ধরিয়ে দেওয়ার  অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জিয়া হায়দার অভিযোগ করেছিলেন, কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার পর তার মায়ের ক্ষেত্রে এই কাজটি করেছে বেসরকারি এই হাসপাতাল। পরে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তার মাকে। সেখানেই গত ২৩ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা আজ (শনিবার) হাসপাতালের ঐ ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী তিন জন নার্স ও একজন নারী চিকিত্সকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দাবি করছেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তারা পালিয়ে আসেন। কিন্তু তাদের এই বক্তব্য আমাদের কাছে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। আসলে তারা ওখানে ছিলেন কি না সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন। আমরা রবিবারও বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলব। তারপর বুঝতে পারব আগুন কীভাবে লেগেছে, আর দরজাটাও বন্ধ ছিল কি না। আপাতত এসি বিস্ফোরণে আগুন লেগেছে বলেই আমাদের মনে হচ্ছে।’

লিটনের স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, ঢাকায় বিদেশি একটি বায়িং হাউজের ‘কান্ট্রি ডিরেক্টর’ পদে কর্মরত ছিলেন লিটন। সাত বছরের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে তারা ঢাকায় থাকেন। অফিসেই হঠাত্ শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য বুধবার বিকালে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দেন। তাকে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থাকতে বলা হয়। কিন্তু রিপোর্ট পাওয়ার আগেই অগ্নিকাণ্ডে রিয়াজসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। পরদিন অর্থাত্ বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তিনি বলেন, একজন সুস্থ মানুষ এভাবে মারা যেতে পারেন না। লিটনের বড়ো ভাই রইসুল আজমও অভিযোগ করেছেন, ‘আমার ভাইয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটা হত্যা। আমরা এই ঘটনার তদন্ত এবং বিচার দাবি করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন রাজধানীর কুড়িলের বাসিন্দা সুলতান মিয়া। তার স্ত্রী ফারহানা তাবাসসুম অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং তার অক্সিজেন লাগছে। সুলতানের আইসিইউ লাগবে এমন কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে। কিন্তু ফারহানা গোটা রাজধানী ঘুরেও কোথাও আইসিইউ পাননি। ফারহানা বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরপর ফোন দিচ্ছে, রোগীকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার জন্য।’

অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের চিফ অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডা. সাগুফা আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেছেন, সাধারণ সময়েই তাদের আইসিউতে রোগীর চাপ বেশি থাকে। এখন আরো বেশি। কিন্তু আইসিইউ বেডও সীমিত। একটা বেডও খালি নেই। তাই যাদের আইসিইউ প্রয়োজন হচ্ছে তাদের বলছি, যে কোনো হাসপাতালে আইসিইউ ফ্যাসিলিটি থাকলে শিফট করতে। অন্য হাসপাতালগুলোরও তো একই অবস্থা। রোগীদের স্বজনদের বলছি, অন্য জায়গায় যদি ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে সেখানে নিয়ে যেতে।