চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বাড়ছে

আপডেট : ৩০ মে ২০২০, ২২:৪৯

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে করোনা ভাইরাস উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মক্ষেত্র থেকে এই ভাইরাসে বন্দর ও কাস্টমসকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংস্থার লোকজনের আক্রান্ত ও মৃত্যু হওয়ায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সিএন্ডএফ-এর অন্তত ছয় জন মালিক করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। চট্টগ্রাম বন্দরের চার জন কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। স্থানীয় কাস্টমসের ১৩ জন কর্মকর্তাসহ ১৪ জন কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে। আরো অনেকের কম বেশি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম জানান, পুরো সাধারণ ছুটির মধ্যেই তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দেশের অন্যতম প্রধান শুল্ক আদায় কেন্দ্র চট্টগ্রাম কাস্টমস খোলা ছিল। প্রতিদিন পণ্য শুল্কায়নসহ   আমদানি রপ্তানি কাজে নিয়োজিত অসংখ্য লোক কাস্টমসে কাজ করতে আসে। এর ফলে কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এরই মধ্যে কাস্টমসের সাত জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও ছয় জন রাজস্ব কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া এক জন কম্পিউটার অপারেটর আক্রান্ত হয়েছে। কাস্টমস কমিশনার বলেন, তাদের লোকজনকে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হচ্ছে। তাই তাদের লোকজন যাতে সহজে করোনা পরীক্ষা করাতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের চার জন কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের আরো ২১ জনের করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল কালেকশন শুরু করেছে। দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান দ্বার চট্টগ্রাম বন্দর সাধারণ ছুটির মধ্যেও তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর বার্থ অপারেটর, বহির্নোঙরে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছে। এরই মধ্যে ঐ সব প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু কর্মচারীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সব বিভাগ আজ রবিবার থেকে খোলায় এর কর্মযজ্ঞও বেড়ে যাবে। বন্দর ব্যবহারকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের লোকজনের আসা-যাওয়া বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সব বিভাগ খোলায় বিভিন্ন অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা কতটুকু সম্ভব হবে তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করছে বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, সাধারণ ছুটির সময় বিভিন্ন বিভাগের লোকজন পর্যায়ক্রমে কাজ করছিল। কিন্তু এখন সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বিধায় বসার বিন্যাস নতুন করে সাজাতে হবে। কারণ স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে। চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু জানান, করোনা ভাইরাসে তাদের সুরক্ষার জন্য কতিপয় সুপারিশসম্বলিত একটি চিঠি আজ রবিবার কাস্টমস কমিশনারকে প্রদান করবেন।