চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল

আইসিইউ পরিচালনায় দক্ষ চিকিত্সক সংকট

আপডেট : ০১ জুন ২০২০, ২১:০২

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালগুলো আইসিইউ পরিচালনায় চিকিত্সক সংকটে পড়েছে। ফলে আইসিইউ থাকলেও জটিল করোনা রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রায় ১৫০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক আছে মাত্র ১৫/২০ জন। এসব চিকিত্সকের সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে পোস্টিং হয়ে গেছে। এতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো মারাত্মক চিকিত্সক সংকটে পড়েছে।

করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে রোগী ভর্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যথায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছে। এই অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো বিপাকে পড়েছে। গত কয়েকদিন আগে বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার বৈঠক করে করোনা রোগী ভর্তির জন্য সরকারি নির্দেশের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তারপর থেকে তারা হাসপাতালে আলাদা করোনা ইউনিট করতে শুরু করেছেন। বেসরকারি হাসপাতালের কয়েকজন মালিক জানান, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিত্সক সেবা মূলত সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সকদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের কলে এনে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতিটি কাজ করছে না। কল দিয়েও চিকিত্সক পাওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বেসরকারি হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘চিকিত্সক সংকটে আমরা আইসিইউ চালাতে পারছি না। চট্টগ্রামে ১৫/২০ জনের মতো আইসিইউ সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক রয়েছে। তারা পালাক্রমে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছে। ফলে আমরা চিকিত্সক পাচ্ছি না। মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে আইসোলেশনের রোগীদের অক্সিজেন দিয়ে চিকিত্সা দেওয়া যায়। কিন্তু তাদের দিয়ে আইসিইউ চালানো যাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা সরকারের কাছে জানিয়েছি।’

বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের অভিযোগ, করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য বলা হলেও চিকিত্সকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিচ্ছে না সরকার। সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকার বহন করছে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সকদের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। তারা যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে ক্ষতিপূরণ কে দেবে।

জানা যায়, আইসিইউতে চিকিত্সাসেবা প্রদানের জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিষয়ে ডিগ্রি নিতে হয়। এই বিষয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী এমডি কোর্স রয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে ডিগ্রিধারী চিকিত্সক সংকট রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এনেস্থেসিওলজিষ্ট চিকিত্সকরা আইসিইউতে চিকিত্সাসেবা দিচ্ছে।

চট্টগ্রামে করোনা রোগী বেড়েই চলেছে। বর্তমানে আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হাসপাতালে রোগী সংকুলান হচ্ছে না। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল ও ফৌজদার হাটে অবস্থিত বিআইটিআইডিতে করোনা রোগী চিকিত্সা চলছে। কিন্তু এদের মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ রয়েছে। এছাড়া চমেক হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য আলাদা ১০টি আইসিইউ বেড করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে এসব বেডে করোনা রোগী ভর্তি করা হবে।

চট্টগ্রামে আরো পাঁচটি হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৮০ শয্যা, ভাটিয়ারীর বিএসবিএ হাসপাতালে ১০০ শয্যা, আগ্রাবাদ সিটি হলে ৩০০ শয্যা, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ১০০ শয্যার।