করোনার কারণে দেশের অন্যতম পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জ স্বাভাবিক ব্যবসাবাণিজ্যের গতি হারিয়ে যে ক্ষতির শিকার হয়েছে তাকে ব্যবসায়ীরা নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তবে তারা এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে চান।
ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হওয়ার এক সপ্তাহ পরেও খাতুনগঞ্জ তার স্বাভাবিক চেহারা ফিরে পায়নি। তবে দেশে সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধির আওতায় চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও আসাদগঞ্জ অনেকটাই চাঞ্চল্য ফিরে পাবে। তবে নতুন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে তারা ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষার নিয়মগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে চান। ব্যবসায়ীরা জানান, লকডাউনের নিয়মবিধি মেনেই এবারের রমজান মাসে এবং ঈদের আগে খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের কেনাবেচা হয়েছে। তবে তা অন্যান্য বছরের মতো ছিল না। ঈদের পণ্য ও ত্রাণসামগ্রীর উপকরণের চাহিদার মুখে ঈদের আগে অনেকগুলো পণ্যের পাইকারি মূল্য বেশ চড়া হয়ে উঠলেও ঈদের পর তার প্রায় সবগুলোই কমে এসেছে। চালের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, আদাসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য এখন স্থিতিশীল। ব্যবসায়ীরা বলেন, লকডাউন চলাকালে গত দুই মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ভোগ্যপণ্যের ডেলিভারি, জেটি ও বহির্নোঙরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজের আগমন এবং সেগুলোর হ্যান্ডলিং চালু থাকায় খাতুনগঞ্জে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ছিল। তবে এই পাইকারি বাজার সৃষ্টির পর ব্যবসায়ে এমন টানা অচলাবস্থা এবং এর ফলে তাদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা নজিরবিহীন।
গত এক সপ্তাহে খাতুনগঞ্জসহ চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী করোনায় আক্রান্ত মারা যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতায় রয়েছেন। এ কারণেও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের গতি কমে গেছে বলে তারা মনে করছেন।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, আপাতত ঘরেই আছি। বাইরে কবে বের হবো বলতে পারছি না। তিনি জানান, ঈদের পর কিছু কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ভোগ্যপণ্যের দোকান, আড়ত খুলেছে। তবে বেচাকেনা শুরু হয়নি। করোনাকালীন সময়ে খাতুনগঞ্জে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সেটি হিসাব-নিকাশ করে দেখছি। তবে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য যা কিছু করা দরকার তা করার চেষ্টা চলবে। ব্যবসায়িদের মনোবল অটুট রাখতে হবে।
খাতুনগঞ্জ আমির মার্কেটের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, ঈদের আগের তুলনায় ঈদ-পরবর্তী সময়ে এখানে বেচাকেনা এখনো শুরুই হয়নি। ছোটো ছোটো পাইকারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে খাতুনগঞ্জের পাইকারি আড়তে ঈদের পর থেকে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯৮০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০ টাকায়। ঈদের আগে দাম ছিল ২ হাজার ১১৪ টাকা। পাম অয়েল প্রতি মণ ঈদের পর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৯০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৮০ টাকায়। ঈদের আগে বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২৫০ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেল ঈদের আগের মতো এখনো প্রতি মণ ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে ২৬ টাকায়।
