কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে করোনা আক্রান্ত এক রোহিঙ্গা (৭১) বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্প ব্লক-সি সাইট-২১ এর বাসিন্দা। তিনি আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা ভুঁইয়া।
গত ৩০ মে দিবাগত রাতে মারা যাওয়া এ বৃদ্ধই করোনায় মৃত্যুবরণ করা প্রথম রোহিঙ্গা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ঘটনায় মৃতের পরিবারের ৯ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে অবজারভেশন করা হচ্ছে।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা ভূঁইয়া আরো জানান, উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্ট্রার ক্যাম্পের এ বৃদ্ধ ৩০ মে বিকেলে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ক্যাম্পের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন। তার মাঝে করোনার লক্ষণ থাকায় এমএসএফ হাসপাতালে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর তাকে রাখা হয় আইসোলেশনে। সেখানে দিবাগত রাতে তিনি মারা যান। যেহেতু করোনার লক্ষণ ছিল তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরদিন সকালে তাকে দাফন করা হয়। সেদিনের (৩১ মে) রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসে।
আরো পড়ুন: নাসিরনগরে ৪ পুলিশসহ নতুন করে ৬ জন করোনায় আক্রান্ত
তিনি আরো জানান, রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত রোহিঙ্গার পরিবারের খোঁজ নিয়ে তার পরিবারের ৯ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়। তাদের মাঝে করোনার কোন লক্ষণ না থাকায় তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়নি, তবে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তাদের কারো জ্বর বা অন্যকোন লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত কোভিড-১৯ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সোমবার পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন রোহিঙ্গার দেহে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের নথিভুক্ত রয়েছে। সোমবার একদিনে ৫ রোহিঙ্গার করোনা পজিটিভ এলেও একজন নতুন ও ৪ জন ফলোআপ পজিটিভ ছিল।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় ৩৪টি শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয়ে আছেন। তাদের সংখ্যা ১১ লাখের বেশি। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১১ মার্চ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প অবরুদ্ধ রাখা হলেও সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও করোনার উপস্থিতি মিলেছে। আর প্রথম কোনো রোহিঙ্গা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএএম
