লিবিয়ায়ও কি সিরিয়ার মতো খেলছেন পুতিন-এরদোয়ান?

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০০:২৯

সিরিয়ার মতোই লিবিয়ায়ও খেলছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সম্প্রতি বিদ্রোহী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতারের বাহিনীকে যেভাবে হটিয়ে দিয়েছে ত্রিপোলির সরকারের বাহিনী তাতে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে দেশটির ভবিষ্যত্ ঘটনাপ্রবাহের প্রচ্ছন্ন নিয়ন্তা হয়ে উঠতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। ২০১১ সালে লিবিয়ার শাসক কর্নেল গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হবার পর দেশটির রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়েছে, চলছে গৃহযুদ্ধ যাতে জড়িয়ে পড়েছে বিদেশি শক্তিগুলোও।

লিবিয়ার দ্বিতীয় প্রধান শহর বেনগাজির ইসলামি উগ্রপন্থিদের তাড়িয়ে জেনারেল খলিফা হাফতারের উত্থান ঘটে ২০১৪ সালে। জেনারেল হাফতার লিবিয়ায় সুপরিচিত কর্নেল গাদ্দাফির সঙ্গে তার বৈরিতার জন্য। তিনি বেনগাজির নিয়ন্ত্রক এবং তিনি চান ত্রিপোলিতে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফায়েজ আল সেরাজের সরকারকে উত্খাত করে লিবিয়াকে আবার এক রাষ্ট্রে পরিণত করতে।

বিদেশি শক্তিগুলো কী চায়?

নিয়ন্ত্রণকামীদের কাছে লিবিয়া এক আকর্ষণীয় দেশ। জনসংখ্যা ৭০ লাখেরও কম, কিন্তু আফ্রিকার সবচেয়ে বড়ো তেল-গ্যাসের রিজার্ভ আছে এখানে। প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সেরাজকে সমর্থন করছে তুরস্ক, কাতার ও ইতালি। জেনারেল হাফতারকে সমর্থন করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, মিশর, রাশিয়া এবং ফ্রান্স। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবার পর যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য একেক সময় একেক রকম রাজনৈতিক সংকেত দিয়েছে। কখনো সেরাজ, কখনো জেনারেল হাফতারকে উত্সাহ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এখন ভয়, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন হয়তো লিবিয়ায় নিজের প্রভাব কায়েম করবেন, ঠিক যেভাবে তিনি সিরিয়ায় করেছেন।

লিবিয়ার সঙ্গে সিরিয়ার অনেক মিল

লিবিয়ার যুদ্ধের সঙ্গে সিরিয়ার অনেক মিল দেখা যাচ্ছে। সিরিয়ায় যেমন, ঠিক তেমনি লিবিয়ারও ভবিষ্যত্ ভাগ্যের নিয়ন্তা হয়ে উঠছেন সেই একই বিদেশি নেতারা। অনেক দিক থেকেই সিরিয়ার ছায়া যুদ্ধের ধারাবাহিকতাতেই যেন চলছে লিবিয়ার যুদ্ধ। তুরস্ক এবং রাশিয়ায় দুই পক্ষই লিবিয়ায় নিয়ে গেছে সিরিয়ান মিলিশিয়াদের যারা নিজেদের দেশের এক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দক্ষ যোদ্ধা হয়ে উঠেছে।