করোনা ভাইরাস মহামারিতে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যায় ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ পেরুতেও দ্রুত বাড়ছে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাত্ত অনুসারে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের নতুন কেন্দ্র হয়ে ওঠা ব্রাজিলে রবিবার পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৩১৪ জন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালির পর ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ব্রাজিলে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে খুব দ্রুত। দুই সপ্তাহেই দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যেখানে যুক্তরাজ্যে লেগেছে দুই মাস, ফ্রান্সে চার মাস ও ইতালিতে পাঁচ মাস। পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
শনাক্ত হওয়া ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৯ জন কোভিড-১৯ রোগী নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ধারাবাহিকভাবে এ সংকটকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। ব্রাজিলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজ্যগুলোতে জারি করা লকডাউনের সমালোচনা করে আসছেন তিনি। পরিস্থিতির আরো অবনতি হলেও প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। কারণ করোনা প্রাদুর্ভাবের চেয়েও লকডাউনের কারণে অর্থনীতি বেশি বিপর্যস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তিনি। রবিবার রাজধানী ব্রাজিলিয়াতে মুখে মাস্ক ছাড়াই তাকে শত শত সমর্থকের সঙ্গে মিলিত হতে দেখা গেছে।
এদিকে লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ পেরুতেও দ্রুত বাড়ছে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা। পেরুতে রবিবার নতুন করে ৮ হাজার ৮০০ লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সংক্রমণের দিক থেকে লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিলের পরই পেরুর অবস্থান। পেরুতে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে ৪ হাজার ৫০৬ জন। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে এটি এ অঞ্চলের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা সতর্ক করে বলেছেন, তারা মাত্র সংকটের অর্ধেক পথে রয়েছেন। পেরুতে মাসব্যাপী কড়াকড়িভাবে লকডাউন চলছে। এছাড়া জারি রয়েছে রাত্রিকালীন কারফিউ। তা সত্ত্বেও সংক্রমণ খুব দ্রুত গতিতেই বেড়ে যাচ্ছে। পেরুর প্রতিবেশী দেশ চিলিতে রবিবার পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই সপ্তাহে ভাইরাসটির প্রকোপ খুব দ্রুত বেড়ে গেছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে রবিবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে মোট ১০ লাখ ১৬ হাজার ৮২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ অঞ্চলের সংক্রমণের অর্ধেকটারও বেশি ঘটেছে ব্রাজিলে। সূত্র: এএফপি
ইত্তেফাক/এমআর
