গড়াই খননে শুষ্ক মৌসুমে বেড়েছে প্রবাহ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ২২:০৬

মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদী খননে শুষ্ক মৌসুমে বেড়েছে স্বচ্ছ পানি প্রবাহ। এছাড়া উত্সমুখ থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্নের পরই গড়াই নদী যেন ফিরে পেয়েছে আসল রূপ। গড়াই পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। উত্সমুখ থেকে দীর্ঘ ৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত এ নদী খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৫৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের জুন মাসে। তবে সংশোধিত ডিপিপি ৬২৮ কোটি টাকা রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মিঠা পানি সরবরাহের একমাত্র উত্স হচ্ছে গড়াই নদী। শত শত বছর ধরে এই গড়াই নদী মিঠা পানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টের ১৬ কিলোমিটার ভাটিতে তালবাড়িয়া নামক স্থান থেকে পদ্মার শাখা নদী গড়াই কুুষ্টিয়া শহর ঘেঁষে দক্ষিণে প্রবাহিত। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে গড়াই নদী তার আসল রূপ-সৌন্দর্য হারিয়ে শীর্ণকায় ও মরাখালে পরিণত হয়। ফলে কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও জীবন-জীবিকা বারবার পড়ছে মারাত্মক হুমকিতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গড়াই নদী খনন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়ার তালবাড়িয়ায় গড়াইয়ের উত্সমুখ থেকে খোকসা উপজেলা অতিক্রম করে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৪ কিলোমিটার এ নদী খনন করা হবে। বর্তমান ডিজাইন অনুযায়ী ১২০ মিটার চওড়া এবং ৬ মিটার গভীরতায় চলছে নদী খনন। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং প্রথম ধাপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ড্রেজার ব্যবহার করে এ পর্যন্ত উত্সমুখ থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপে আরো ৬ কিলোমিটার নদী খনন কাজ চলমান। চলতি খনন কাজে নদীর তলদেশ থেকে ৬০ লাখ ঘনমিটার বালু-পলিমাটি অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নদী শাসন ও তীর সংরক্ষণের কাজও চলছে। বাকি ৩২ কিলোমিটার আউটসোর্সিং টেন্ডারের মাধ্যমে খনন করা হবে।

ডিজাইন অনুযায়ী ৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত নদী খনন সম্পন্ন হলে পানি প্রবাহ সচলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততারোধ সম্ভব হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আলী আফরোজ জানান।

গড়াই ড্রেজিং প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী তাজমীর হোসেন জানান, মিঠা পানির একমাত্র উত্স হচ্ছে গড়াই নদী। এ নদীর সঙ্গে আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্ব নির্ভরশীল। তাই গড়াই নদীর অস্তিত্ব রক্ষা এবং সারাবছর নদীর পানি প্রবাহ সচল রাখার জন্যই এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, শুষ্ক মৌসুমসহ সারাবছর গড়াই নদীতে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করাই নদী খনন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। তবে পানি প্রবাহ চলমান রাখতে প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে এ নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে হবে।