শিক্ষা খাতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বাজেটে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের আহ্বান

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ২২:৫২

শিক্ষাখাতে করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও আগামীতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার বাজেটে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ দরকার বলে মনে করেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষাখাতে করোনার প্রভাব মোকাবিলা, ভয় নয় প্রয়োজন সচেতনতা, সতর্ক ও ঝুঁকি প্রশমনে বিনিয়োগ’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বুধবার একথা জানানো হয়।

তারা বলেন, এই ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে আগামীতে ঝরে পড়া, শিশু শ্রম বেড়ে যাওয়া, বাল্যবিবাহ, অপুষ্টি ও প্রসূতি মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ননএমপিও শিক্ষকরা বিপদে পড়েছেন। এসব থেকে উত্তরণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে দরকার বাজেটে শিক্ষার জন্য বড়ো বিনিয়োগ।  সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবির পাশাপাশি বাজেট ব্যবস্থাপনায় অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়ানো, আর অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সঞ্চালনায় এই সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরিটাস ড. মনজুর আহমেদ, ব্র্যাকের শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পরিচালক ড. এহসানুর রহমান।  সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশেষ পরিকল্পনায় পাঠদান, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করা, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো বাদ দেওয়া ও পাঠদানের রুটিন সমন্বয় করা আবশ্যক।

শিক্ষাখাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতে এ খাতে পর্যাপ্ত বাজেদের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়িয়ে উপবৃত্তি ও স্কুল ফিডিং কার্যক্রম, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাসহ সব পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য তা সম্প্রসারণ করার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, চর-হাওর ও উপকূলীয় এলাকা, দুর্গম এলাকা, শহরের বস্তি এবং গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীদের বিশেষ চাহিদা মেটাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।