বিশৃঙ্খলা ঠেকাইতে কী করিবেন

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ২১:২৭

৬৬ দিন পর সীমিত আকারে গণপরিবহন চালু হইয়াছে। ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করিয়া প্রজ্ঞাপন জারি করা হইলেও সঙ্গে কিছু অবশ্যপালনীয় শর্তারোপ করা হইয়াছে। স্বাস্থ্যবিধি মানিয়া চলার কথা বলা হইয়াছে; বলা হইয়াছে অর্ধেক যাত্রী বহন করিতে, স্যানিটাইজার ব্যবহার করিতে। কিন্তু লক্ষ করা যাইতেছে, ঐ ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির আদেশটি ব্যতীত অন্য কোনো নিয়মকানুনের ধার ধারিতেছেন না পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। অধিকন্তু এই অভিযোগও উঠিতেছে যে ৬০ শতাংশের স্থলে কোথাও কোথাও যাত্রীদের নিকট হইতে অধিক ভাড়া আদায় করা হইতেছে। আবার উলটো চিত্রও রহিয়াছে। গণপরিবহন পুনরায় রাস্তায় আসিবার পর হইতেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে ছবি ছাপা হইতেছে, তাহাতে দেখা গিয়াছে, কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করিয়া যাত্রীরা হুড়মুড় করিয়া গাড়িতে উঠিতেছে। এমনকি সহযোগী একটি পত্রিকার ছবিতে দেখা গিয়াছে, ভিড়ের কারণে দরজা দিয়া উঠিবার সুযোগ না পাইয়া জানালা টপকাইয়া গাড়িতে প্রবেশ করিতেছেন যাত্রী। অবশ্য একটি বাস্তব দিকও রহিয়াছে, যাহা উপেক্ষা করার সুযোগ নাই। আর তাহা হইল, অফিস-আদালত খুলিয়া গিয়াছে, অনেক ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান খুলিয়া গিয়াছে। এই অবস্থায় কর্মস্থলে যাতায়াত করিতেই হইবে। অথচ পরিবহন সীমিত। ফলে যাত্রীসাধারণের আর করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক থাকিতেছে না বরং কর্মস্থলে উপস্থিতিই মুখ্য হইয়া উঠিতেছে।

তাহা হইলে আমরা কি এই কথা বলিব যে সরকার সকল কিছু খুলিয়া দিল কেন? না, উহা বলার কোনো সুযোগ নাই। এই রূপ পরিস্থিতি সম্পর্কে আধুনিক বিশ্বের কর্মচঞ্চল রাষ্ট্রের কোনো অভিজ্ঞতা নাই, জনমানুষেরও ইহা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। ফলে দুই মাসাধিককাল সকল কিছু বন্ধ রাখিয়া রাষ্ট্রগুলি বুঝিতে পারিয়াছে, এইভাবে চলিতে পারে না। আর কিছুকাল এইভাবে চলিলে অর্থনৈতিক যে নূতন বালাই উপস্থিত হইবে, তাহা সামাল দেওয়ার কোনো উপায় থাকিবে না। শুধু বাংলাদেশ নহে, বিশ্বের সকল দেশের জন্য একই পরিণতি বহন করিতেছে এই করোনাকাল। আমাদের তো একটি উন্নয়নশীল দেশ, বহু শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ দুই হইতে তিন মাসের মাথায় সকল কিছু পুনরায় খুলিয়া দিতে বাধ্য হইয়াছে। তবে সেই সকল দেশের একটি বাড়তি সুবিধা রহিয়াছে। তাহাদের জনঘনত্ব বাংলাদেশের মতো নহে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর বা টোকিওর মতো শহরে ঘনবসতি থাকিলেও তাহাদের আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মানিয়া চলা সংক্রান্ত সচেতনতা অনেক বেশি। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের আরো তিক্ত বাস্তবতা মোকাবিলা করিতে হইতেছে।

কিন্তু বাস্তবতার পরও লাগাম টানিয়া ধরিবার প্রয়োজন রহিয়াছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের আরো তত্পর হইয়া যতখানি সম্ভব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করিতে হইবে। প্রয়োজনে সরকার সাময়িকভাবে ভলান্টিয়ার নামাইবার ব্যবস্থা করিতে পারে। যাহারা ভাড়া বেশি আদায় করিতেছেন, তাহাদের সড়কে পরিবহনের কাজে নামিবার অগ্রাধিকার বাতিল করিতে হইবে। সেই সঙ্গে জনগণকে আরো সচেতন করিতে সড়কে সড়কে প্রচারণা চালানো যাইতে পারে। সর্বোপরি, সকল কিছু খোলাও রাখিতে হইবে, আবার জীবনও বাঁচাইতে হইবে—এই কঠিন চ্যালেঞ্জ কী করিয়া সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা যায় তাহার উপায় বাহির করিতে হইবে।