প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সব দেশকে এক সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের দেখিয়েছে সংক্রামক রোগ কোনো সীমান্ত চিনে না এবং দুর্বল, ক্ষমতাধর কিংবা উন্নত, উন্নয়নশীল কাউকে আলাদা বিবেচনা করে না। লন্ডনে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) আয়োজিত গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে কমপক্ষে ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহে এ সম্মেলনের আয়োজন করে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে মানব জাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি কোভিড-১৯-এর মতো প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গাভিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আমাদের আরো একবার পুরোনো প্রবাদ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন প্রমাণিত।’
শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী প্রতি চার মাসে একটি নতুন সংক্রামক রোগের উদ্ভব হয়। গাভির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০০ সাল থেকে গাভি ৭৬০ মিলিয়ন মানুষকে প্রাণঘাতী রোগ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করছে এবং সারা বিশ্বে ১৩ মিলিয়নের বেশি প্রাণ বাঁচিয়েছে।
গাভিকে সহযোগিতা করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু আমি নই, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) কে সহায়তার কথা শুনতে গোটা বিশ্ব অপেক্ষা করছে।’ গাভির জন্য তহবিল বাড়াতে এই ভার্চুয়াল সামিটে বিশ্ব নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্তেনিও গুতেরেস, গাভি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. এনগোজি ওকনজো-আইওয়ালা উদ্বোধনী সেশনের বক্তব্য রাখেন। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।
