ব্যর্থতাকে জয়

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৭

পড়ার টেবিলটি সুন্দর। সামনে সাদা দেয়াল। তার ওপর ঝুলছে একটি রঙিন পোস্টার। তাতে সবুজ পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য। মাঝেমধ্যে হলুদ ফুলের সমারোহ। পাহাড়ের চারপাশ ঘিরে রয়েছে একটি লেক। লেকে স্বচ্ছ পানি। গতকাল টেবিলের সামনে পোস্টারটি ঝুলিয়েছেন মা। মুগ্ধ চোখে অসাধারণ এই দৃশ্যটি দেখছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রুম্মান। ওর মন আনন্দে ভরে উঠছে, ভালো লাগছে খুব। কিন্তু উঠে আসতেই টেবিলের উপর ধুলোবালি চোখে পড়ল, নিমিষেই মন খারাপ হয়ে গেল। পড়াশোনাতেও ঠিকঠাক মন বসল না। ফলে পরদিন পরীক্ষায় আর ঠিকমতো উত্তর দিতে পারল না সে। রুম্মান ভালো ছাত্র। আগের পরীক্ষাগুলোয় ভালো উত্তর দিয়েছে সে। তাহলে আজ কেন পারল না? বিজ্ঞান বলছে, মনের গভীর একাগ্রতা স্মরণশক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধিবিকাশের পথকে সহজতর করা যায় একান্ত নিমগ্নতার মাধ্যমে শেখার চেষ্টা করলে। খুব মনোযোগের সঙ্গে কিছু করলে বা দেখলে তার ছাপ থেকে যায় মনে। বড়রা প্রায়ই বলেন, মন দিয়ে কাজ কর। এই সাদামাটা উপদেশের মধ্যে আসলে অনেক বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে।

মন তাহলে কী? এ তো মস্তিষ্কের অংশ, যা আমাদের চিন্তা-চেতনা-আবেগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চোখে দেখা ও কানে শোনার মিলন ঘটিয়ে যদি কিছু করা যায়, শেখা যায়, তাহলে তা দীর্ঘদিন মনে থাকে। রুম্মান সুন্দর পাহাড়ের ছবি দেখছিল। দেখে কিছুটা মন ভালো হয়। পরক্ষণেই টেবিলের ধুলোবালি আবার মনকে তেতো করে দিল। ফলে যা সে পড়ছিল, তা আর স্মৃতির পাতায় স্থায়ী আসন পাচ্ছিল না। আবার এরকমও হতে পারে যে, অন্য যেকোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তা, হতাশাও কাজ করছে তার এই ব্যর্থতার পিছনে। কাজেই যেকোনো কাজে বসতে হলে অন্যান্য চিন্তা বাদ দিয়ে সেটাতেই মনোযোগী হতে হবে, তাহলে বুঝতে সময় লাগবে কম, মনেও থাকবে বেশিদিন। ‘একজন দক্ষ ব্যাটসম্যান হতে হলে প্রতিটা বলের প্রতি সূক্ষ্ম যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়, তীক্ষ চোখে বলটি পর্যবেক্ষণ করতে হয়,’ কথাগুলো শচীন টেন্ডুলকারের। এ বাক্যেও লুকিয়ে আছে মন ও চোখ। যে যত বেশি এসব গোপন ক্রিয়া ধারালো করতে পারবে, সে তত বেশি সফল হবে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে।