আসছে বাজেট ২০২০-২১

বাজেটে ঋণনির্ভরতা বাড়ছে

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ২২:১২

চলতি অর্থবছরের শুরুটা ভালো হলেও করোনার প্রভাবে শেষটা আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে রাজস্ব আদায়ে টান পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় আসছে নতুন ২০২০-২১ অর্থবছরেও এর ধাক্কা থাকবে। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ অঙ্ক বেড়ে হচ্ছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশ। আগের বাজেটগুলোতে ঘাটতির আকার ৫ শতাংশের ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হলেও নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই অঙ্কে আর আটকে রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১১ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন বাজেটের আকার হতে পারে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার মতো। রাজস্ব আয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় ঘাটতি থাকবে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। সাধারণত বাজেটে ঘাটতি মেটানো হয় দেশি-বিদেশি ঋণ ও সঞ্চয়পত্র বিক্রির টাকা থেকে। ব্যাংক থেকে সরকার বড়ো আকারে ঋণ নিয়ে থাকে। সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছর ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ বা ধার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত না হওয়া এবং লকডাউন এবং দীর্ঘ ছুটির কারণে সরকারের অপ্রত্যাশত ব্যয় বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে নিয়মিত ব্যয়ও করতে হচ্ছে। এজন্য ব্যাংক হতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য অনেক আগেই পূরণ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৭২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সরকার ঋণ নিয়েছে ৬৪ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ অর্থবছরে শেষে সরকারের ব্যাংক ঋণ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত অর্থবছর শেষে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ১১ মাস শেষে ৩১ মে পর্যন্ত এই ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে এবছর কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হবে না। ফলে ব্যয় মেটাতে ঋণ নির্ভরতা বাড়াতে হবে।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। সেসময় সঞ্চয়পত্র বিক্রি অনেক বেড়েছিল। ফলে সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল মাত্র ৯২৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাত হতে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ অনেক বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতেই রাজস্ব আদায় কমেগেছে। সেই সঙ্গে কড়াকড়ি আরোপের ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে গেছে। ফলে সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আয়কর, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট—কোনো খাতেই এখন প্রত্যাশিত কর আদায় হচ্ছে না। তাছাড়া করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের অপ্রত্যাশিত ব্যয় আগের চেয়ে বেড়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরে অর্থ সংগ্রহের নতুন চ্যালেঞ্জ থাকবে।