মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল
জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা
শুদ্ধিকরণ (পর্ব ১৩)
২.৮ বিভক্তিজনিত অশুদ্ধি
বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে-সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে। একবচন ও বহুবচনভেদে বিভক্তিগুলোর আকৃতিগত পার্থক্য দেখা যায়। বিভক্তির অপপ্রয়োগে অনেক সময় ভাষার অশুদ্ধি ঘটে।
(ক) অপ্রাণী ও ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে সাধারণত ‘রা’ যুক্ত হয় না; গুলা, গুলি, গুলো যুক্ত হয়। যেমন : পাথরগুলো, গোরুগুলো ইত্যাদি।
(খ) অপ্রাণিবাচক শব্দের সাথে ‘কে’ বা ‘রে’ বিভক্তি হয় না; শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন : কলম দাও। বই পড়ো।
(গ) স্বরান্ত শব্দের সাথে ‘এ’ বিভক্তির রূপ হয় ‘য়’ বা ‘য়ে’। ‘এ’ স্থানে ‘তে’ বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে। যেমন : মা + এ = মায়ে, ঘোড়া + এ = ঘোড়ায়, পানি + তে = পানিতে ইত্যাদি।
(ঘ) অ-কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের সাথে প্রায়ই ‘রা’ স্থানে ‘এরা’ হয় এবং ষষ্ঠী বিভক্তির ‘র’ স্থলে ‘এর’ যুক্ত হয়। যেমন : লোক + রা = লোকেরা। বিদ্বান (ব্যঞ্জনান্ত) + রা = বিদ্বানেরা। মানুষ + এর = মানুষের। লোক + এর = লোকের। কিন্তু আ-কারান্ত, ও-কারান্ত, এবং এ-কারান্ত খাঁটি বাংলা শব্দের ষষ্ঠীর একবচনে সাধারণত ‘র’ যুক্ত হয়, ‘এর’ যুক্ত হয় না। যেমন : ছোটোর, মামার, ছেলের, বাবার ইত্যাদি।
বিভক্তিজনিত অশুদ্ধির কিছু অশুদ্ধ বাক্য শুদ্ধিকরণ :
অশুদ্ধ : বালকরা খেলাধুলায় পটু।
শুদ্ধ : বালকেরা খেলাধুলায় পটু।
অশুদ্ধ : শ্রমিকরা ধর্মঘট নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সভা করেছে।
শুদ্ধ : শ্রমিকেরা ধর্মঘট নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সভা করেছে।
অশুদ্ধ : মার সাথে ভালো ব্যবহার করবে।
শুদ্ধ : মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করবে।
অশুদ্ধ : গোরুরা মাঠে ঘাস খাচ্ছে।
শুদ্ধ : গোরুগুলো মাঠে ঘাস খাচ্ছে।
৩. প্রবাদ- প্রবচনজনিত অশুদ্ধি
প্রবাদ-প্রবচন হচ্ছে কথার আকার বা ভাণ্ডার। এর মূলে থাকে যুগসঞ্চিত অভিজ্ঞতা। যুগ যুগ ধরে এগুলো লোকমুখে চর্বিত, লালিত ও সংরক্ষিত হয়ে আসছে। যুগ যুগান্তরে প্রচলিত প্রবাদের যথেচ্ছ বিকৃতি বা পরিবর্তন চলে না। প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃত প্রয়োগ অনেক সময় মূল অর্থ প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
প্রবাদ-প্রবচনজনিত অশুদ্ধির কিছু অশুদ্ধ বাক্য শুদ্ধিকরণ :
অশুদ্ধ : আদার ব্যাপারীর নৌকার খবর।
শুদ্ধ : আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর।
অশুদ্ধ : ইট মারলে পাথর খেতে হয়।
শুদ্ধ : ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়।
অশুদ্ধ : কারো মাঘ মাস, কারো সর্বনাশ।
শুদ্ধ : কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ।
অশুদ্ধ : নাচতে না জানলে বাড়ি বাঁকা।
শুদ্ধ : নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।
