বিসিবির উপেক্ষার গল্প শোনালেন রফিক

আপডেট : ০৬ জুন ২০২০, ২০:৪০

স্পোর্টস রিপোর্টার

সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে মুশফিকুর রহিম বলছিলেন, সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে মোহাম্মদ রফিককেই শুধু বর্তমান সময়ের জাতীয় দলে রাখতে চাইতেন। আকরাম খান বলেছেন, রফিক অনায়সেই হতে পারতেন আজকের সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাঁহাতি অলরাউন্ডার রফিকের কীর্তির শেষ নেই। দেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ, আইসিসি ট্রফি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, টেস্ট-ওয়ানডেতে দেশের পক্ষে প্রথম ১০০ উইকেট শিকারি বোলার তিনি। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেও ছিল লম্বা ক্যারিয়ার। ক্রিকেট খেলে মানুষের অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছেন, বিনোদিত করেছেন কোটি মানুষকে। জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা সরল মনের এই ক্রিকেটার নিজের বাড়ি কেরানীগঞ্জেই দিনাতিপাত করছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন ১২ বছর আগে (২০০৮ সাল)। তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল ক্রিকেটের সঙ্গে থাকবেন, বিসিবির সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু নিতান্ত পরিতাপের বিষয়, গত এক যুগে বিসিবির দরজা খুলেনি রফিকের জন্য। মনের ভেতর থেকে তীব্র হতাশা, বেদনা নিয়ে গত শুক্রবার রাতে এক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার শুনিয়েছেন, এত বছর ধরে বিসিবির কাছে উপেক্ষিত হওয়ার গল্প। বিসিবির কর্তাদের মিথ্যে আশ্বাসের কথা। বিসিবির ছায়াতলে জায়গা না পেয়ে ব্যবসায়ে মনোযোগী হয়েছেন রফিক। এখন স্বনামধন্য বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ক্রিকেট একাডেমিতে কাজ করে আগামীর ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্নই দেখেন তিনি। 

বর্তমানে বিসিবির সঙ্গে যুক্ত আছেন অনেক সাবেক ক্রিকেটার। যারা পারফরম্যান্স, প্রতিভা কোনো কিছুতেই রফিকের ধারেকাছে নেই। আশ্বাস দিয়েও তাকে ঘুরিয়েছে বিসিবির কর্তারা। সেই করুণ গল্প জানাতে গিয়ে রফিক বলেছেন, ‘গর্ডন গ্রিনিজ আসার পর তার সঙ্গে বোর্ড সভাপতি আমাকে বলল, আমাকে সময় দিয়েছে সুজন (খালেদ মাহমুদ)। পরে আমি গেলাম, অফিসে কেউ নাই। আমি তিন দিন গিয়েছি অফিসে। নাম বলতে চাই না, অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে ঠিক আছে, আমরা ব্যস্ত আছি পরে আপনাকে বলবোনে। পরে বলতে বলতে ১২ বছর চলে গেল। ১২ বছর চিন্তা করুন কতগুলো দিন।’

বিসিবিতে কাজ করার আশা কার্যত ছেড়েই দিয়েছেন রফিক। বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে ক্রিকেট একাডেমিতে কাজ করার স্বপ্নই এখন লালন করছেন ৪৯ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার। তিনি বলেছেন, ‘এ বছর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে কাজ করছি (প্রিমিয়ার লিগ)। পাশাপাশি ফ্রাইডে ক্রিকেট খেলতেছি। বসুন্ধরা স্টেডিয়াম বানাচ্ছে। বসুন্ধরার মালিকের ছেলে আমাকে বলেছে, আবার ইশতিয়াক আছে (ইশতিয়াক সাদেক) ওরা বলেছে আমরা এখানে একাডেমি করব। আপনি আজীবন নিজের মতো করে একাডেমিটা করবেন এবং নিজের মতো করেই চালাবেন। আসলে সত্যি কথা, আমি ওটা নিয়েই এখন আগ্রহী। আমি জানি এত বছর হয়ে গেছে বোর্ড সাড়া দিচ্ছে না, আমি মনে করি আর সাড়া দিবেও না।’