ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এবার রাজশাহীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চাষিদের দাবি, প্রায় অর্ধেক আম ঝরে পড়েছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, রাজশাহীতে ঝড়ে ২০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। তবে রাজশাহীর প্রায় ৭৫ হাজার চাষি ও ব্যবসায়ী আম কেনাবেচা করছে। ইতিমধ্যে আটি ও গোপালভোগ বিক্রি শেষের পথে। গতকাল শনিবার উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের হাট পুঠিয়ার বানেশ্বরে ফজলি ছাড়া সব ধরনের আম কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। তবে আরো মাসখানেক বাজারে বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যাবে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের মোকাম রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে আম কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রাজশাহীর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে খুচরা আম বিক্রি হয়। অনলাইনে অর্ডারেও প্রচুর আম বিক্রি হচ্ছে। শনিবার বানেশ্বর বাজার ঘুরে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, বাজারে গোপালভোগ জাতের আম শেষের দিকে। বর্তমানে বেশি পাওয়া যাচ্ছে লখনা ও গুটি আম। অল্প পরিমাণে উঠেছে হিমসাগর (খিরসাপাত) ও ল্যাংড়া। সপ্তাহখানেকের মধ্যে ল্যাংড়া ও হিমসাগর আম পুরোদমেবাজারে আসবে। শনিবার মানভেদে গোপালভোগ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা মণ (৪০ কেজি)। লখনা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা মণ, হিমসাগর বা খিরসাপাত ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা, ল্যাংড়া ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা এবং গুটি আম ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ।
রাজশাহীর কাটাখালীর আম ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বছর আমের দাম গত বছরের চেয়ে ভালো। ফলন কম হলেও দাম ভালো থাকায় চাষিরা লাভবান হবেন। এ বছর আম ঝরে গেলেও গোপালভোগ আমের ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া গেছে। বুধবার ২০ মণ গোপালভোগ আম বিক্রি করেছি ২১০০ টাকা মণ হিসেবে। গুটি আম ও লখনা আমের দামও ভালো। হিমসাগর, ল্যাংড়া আম পরিপক্ক হতে আরো সপ্তাহখানেক লাগবে। তখন আমের দাম ভালো পাওয়া যাবে। আড়ানীর আমচাষি আলতাফ হোসেন বাদশা বলেন, আমের মৌসুমে তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রতিদিন এক ট্রাক আম দিতেন। এবার তিন/চার দিনে এক ট্রাক দিচ্ছেন। এখন লখনা ও হিমসাগরের দাম কিছুটা কম। সপ্তাহখানেকের মধ্যে পুরোদমে বাজারে উঠলে এসব আমের দামও বাড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মো. শামসুল হক জানান, গোপালভোগ আম শেষের দিকে। হয়তো বা বাজারে তিন/চার দিন আর পাওয়া যেতে পারে। এখন বাজারে অল্প পরিমাণে উঠতে শুরু করেছে খিরসাপাত, হিমসাগর ও লখনা। রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এদিকে আমচাষিদের সহায়তায় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুক্রবার বিকাল থেকে চালু হয়েছে স্পেশাল ম্যাঙ্গো ট্রেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কেজিপ্রতি এক টাকা ৩০ পয়সা আর রাজশাহী থেকে কেজিপ্রতি এক টাকা ১৭ পয়সায় ব্যবসায়ী ও চাষিরা প্রতিদিন ২৪০ মেট্রিক টন আম ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়া ২ জুন থেকে ডাক বিভাগের ট্রাকে সর্বোচ্চ ৫ মেট্রিক টন আম প্রতিদিন বিনা ভাড়ায় ঢাকায় নিতে পারছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা।
