রংপুরে আইনজীবীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় নিহতের ছোটো মেয়ে অংকন হক বাদী হয়ে তাজহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল শনিবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইনজীবী আসাদুল হকের ময়নাতদন্ত শেষে নগরীর ধর্মদাস বারো আউলিয়ায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিহতের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া ছড়ান এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রোকোনুজ্জামান জানান, দুই জন মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে রতন মিয়া জানিয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের পদক্ষেপ নিচ্ছি। অপর হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে কয়েকটি পুলিশের টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার কাজী মোত্তাকী ইবনে মিনান, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহীদুল্লাহ কাওছার, সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) জমির উদ্দিনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
জানা গেছে, রতন ও আরেক চোর চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আসাদুল হককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। গত শুক্রবার দুুপুর ২টার দিকে নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের মর্ডান ধর্মদাস বারো আউলিয়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ঐ আইনজীবীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থনীয়রা জানান, নিহত আইনজীবীর দুই মেয়ে। বড়ো মেয়ে আশা হক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। করোনা পরিস্থিতিতে ছোটো মেয়ে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী অংকন হককে নিয়ে স্ত্রী সাবেরা হক শেফালী তাদের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া ছড়ান এলাকায় অবস্থান করছিলেন। আর ধর্মদাস বারো আউলিয়ার ঐ বাড়িতে আসাদুল হক একা থাকতেন।
একটি সূত্র জানায়, ঘাতক রতন একজন মাদকাসক্ত। সে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত। সে এলাকায় নিয়মিত চুরি ছিনতাই করতো। তার নামে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও আসাদুল হকের বাড়িতে বেশ কয়েকবার চুরি করেছে সে।
