প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চান এমপি এনামুলের দ্বিতীয় স্ত্রী লিজা

আপডেট : ০৬ জুন ২০২০, ২২:৪৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিজের ওপর পরিচালিত অন্যায়ের বিচার চেয়েছেন রাজশাহীর সংসদ সদস্য এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার লিজা। স্ত্রীর অধিকার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রকাশ্যে আসায় মিথ্যা মামলায় জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়ানোর কথা বলে গতকাল শনিবার পৃথক স্ট্যাটাসে এই আবেদন জানান তিনি। এদিন সকালে দেওয়া ঐ স্ট্যাটাসে লিজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার জননী, যিনি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমি সেই জনদরদী জননেত্রীর কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি আপনি আমাকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন, আমার সঙ্গে হওয়া সকল অন্যায়ের  সুবিচার করুন।’

এদিকে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান শনিবার সন্ধ্যায় জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু আসামিকে পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্ট্যাটাসে তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমাকে বিয়ে করে গোপনে রক্ষিতার মতো রেখে দিয়ে ছিলেন এমপি সাহেব। আমি ফেসবুকে ছবি দিয়ে বলেছিলাম আমি তার বউ। উনি যেন আমাকে বউ বলে স্বীকার করেন। আমি চাঁদা চাইতে ফেসবুকে ছবি দেই নাই। আমাকে বউ বলে স্বীকার করে উনি সংসার করবেন, এটাই চেয়ে ছিলাম। আমি ফেসবুকে ছবি দিয়েছি সেই অপরাধে মাননীয় সংসদ সদস্য কাজিকে টাকা দিয়ে কিনে একমাস আগের ডিভোর্স দেখিয়ে বৃহস্পতিবার একটি ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন। আরো দুটি নোটিশ দুইমাসে আমি পেলে তবেই ডিভোর্স সম্পূর্ণ হবে। এখনো আমি আইনত এমপি সাহেবের বউ। উনি আমাকে এইভাবে অপবাদ দিয়ে, মিথ্যা মামলা দিয়ে, নির্যাতন করতে পারেন না। আমি কোনো অপরাধ করিনি। আজ বিনা অপরাধে আমি পালাতক জীবনযাপন করছি। পুলিশ আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। মাননীয় সংসদ সদস্য তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে চাঁদা দাবি করেছি এবং উনার মান-সম্মান নষ্ট করেছি, এমন অভিযোগ করে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করছেন। যে কোনো সময় উনি আমাকে মেরে ফেলতে পারেন। আমি ভীষণ কষ্টের মধ্যে আছি। আমার পাশে কেউ নেই। আমি এক অসহায় নারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর কাছে আকুল আবেদন করছি। আপনি সবসময়ই দলমত নির্বিশেষে সুবিচার করেছেন। আমাকে আপনি সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন।’

আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, যেদিন আমি আমার ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছি, সেই দিন থেকে আমি যেন রাজশাহী শহরে থাকতে না পারি সেই জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা ও অবান্তর সংবাদ করিয়ে আমার মান-সম্মান নষ্ট করেছেন। আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জনগণের সামনে বাজে মেয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে বাড়ি ছাড়া করেছেন। আমি আর কত অত্যাচারের শিকার হবো? আমি শুধু বউয়ের অধিকার চেয়ে ছিলাম সেই অপরাধে আজ আমি অপরাধী। গণতান্ত্রিক দেশে আমার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই?