বিদেশি ক্রেতাকে ব্ল্যাকলিস্ট করার বিপক্ষে গার্মেন্টস বায়িং হাউজগুলো

আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ২১:৫১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কোনো বিদেশি ক্রেতা রপ্তানির বিপরীতে অর্থ পরিশোধ না করলে আইনগত প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ঢালাও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)। সংগঠনটি মনে করছে, এটি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির জন্য সহায়ক নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ধরনের কোনো বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সমাধানের পথ খোঁজা সঠিক হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিজিবিএর সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসাইন। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লোকসানের মুখে এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সহযোগিতার দাবি জানিয়ে ঐ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রসঙ্গত, রপ্তানির অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দিয়ে চিঠি দেয় পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাধারণত সেতুবন্ধনের কাজ করে থাকে বায়িং হাউজগুলো। ক্রেতার কাছ থেকে ক্রয়াদেশ নিয়ে স্থানীয় উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করিয়ে থাকে বায়িং হাউজগুলো। বিজিবিএর দাবি, দেশের গার্মেন্টস রপ্তানির ৮৫ শতাংশই বায়িং হাউজগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ থেকে ঋণ না পাওয়ার জন্য নীতিমালা না থাকাকে দায়ী করে সংগঠনের পক্ষ থেকে হতাশা প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তারা।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের উদ্যোক্তাদদের উেস আয়কর বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা, তিন বছরের কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া, বায়ার কর্তৃক পাঠানো পোশাকের নমুনার ওপর বিদ্যমান শুল্কহার কমানোর দাবি জানানো হয়। দেশে বিদেশি বায়িং হাউজ কিংবা লিয়াজোঁ অফিসকে অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় বিডা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যথাযথ তদারকি করার দাবিও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের মহাসচিব আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।