করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো ১৬ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনই পুরুষ।
বরিশাল অফিস জানায়, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে শনিবার রাতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় দুই রোগী এবং আগৈলঝাড়া উপজেলায় আরো দুই জনসহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে মারা যান নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড পলাশপুর এলাকার আইজউদ্দিন আকনের ছেলে খালেক আকন (৪০) এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নাইয়াপট্টি এলাকার ফিরোজ আলমের ছেলে পারভেজ (৩০)। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নে এক জন (৪৫) এবং রত্নপুর ইউনিয়নে ৬৫ বছরের এক ব্যক্তি করোনার উপসর্গ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের দুই জনকে দাফন করেছে বারপাইকা আল-মদিনা ফাউন্ডেশনের সাত সদস্যের একটি টিম।
খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাদের মৃত্যু হয়। মৃত দুই নারী হলেন নড়াইল সদর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের স্ত্রী রোকেয়া (৬৫) ও গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বদরুল আলমের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৪৫)।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, করোনার উপসর্গ সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নজরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রি শনিবার রাতে উপজেলার মেদুয়ারি ইউনিয়নের সোয়াইল গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল জানান, রবিবার সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন সম্পন্ন করার আগে করোনা পরীক্ষার জন্য তার মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
চাঁদপুর প্রতিনিধি ও হাজীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, শনিবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বলাখাল গুরুচরণবাড়িতে করোনা উপসর্গ নিয়ে কার্তিক চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করেছে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গতকাল সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে সাদ্দাম হোমেন (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ জানান, তার দেহের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকার সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউশনে পাঠানো হবে।
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে করোনা উপসর্গ নিয়ে গত শুক্রবার দুই জন ও শনিবার দুই জন মারা গেছেন। নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। শুক্রবার রাতে মারা যান উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শাকতলী গ্রামের সর্দার বাড়ির মৃত আসলাম হোসেনের ছেলে আলমগীর ড্রাইভার (৩৫) ও পৌরসভার বাতুপাড়া গ্রামের আবুল হাশেমের স্ত্রী রহিমা বেগম (৬৫)। রহিমা বেগম ঢাকার মিরপুর মারা যান। পরে গ্রামের বাড়িতে এনে তার লাশ দাফন করা হয়। শনিবার রাতে মারা যান, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পদুয়া গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে অটোচালক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) এবং মক্রবপুর ইউনিয়নের বাননগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের সাগর হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৫)।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, শিবপুর উপজেলার কুন্দারপাড়া এলাকায় শনিবার রাতে সামসুল আলম ভূঞা খোকা (৬৮) নামে এক ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুল ইসলাম।
করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই জনের লাশ দাফনে বাধা
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই জাকির হোসেনের বরাত দিয়ে জানান, উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের মসলেম আলির ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩৭) শুক্রবার ঢাকার একটি হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যান। শনিবার লাশ গ্রামে আসার পর কবরস্থানে লাশ দাফন করতে গেলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। একই দিনে দামুড়হুদার নাস্তিপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে আকতার আলি করোনার উপসর্গ নিয়ে শনিবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। লাশ রাতে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে গ্রামবাসী লাশ দাফনে বাধা দেয়। পরে দর্শনা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ দাফন করা হয়।
