মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল। তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য। শনিবার রাতে কুয়েতের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তাকে গ্রেফতার করে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘কুয়েত সিটির মুশরেফ আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কুয়েত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।’ তবে তিনি জানান, ‘ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করছে কুয়েত। গত ফেব্রুয়ারিতে এ সংক্রান্ত সংবাদ কুয়েতের পত্রিকায় প্রকাশ হয়। এরপরও দূতাবাসকে কিছু জানায়নি কুয়েত সরকার।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল রাতে ইত্তেফাককে জানান, ‘কেউ যদি বিদেশে গিয়ে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হন তাহলে সরকারের কিছু করণীয় নেই। তবে আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি। রাষ্ট্রদূতকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সংসদ সদস্য গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টা খুবই দুঃখজনক। এটা আমাদের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।’
সূত্র জানায়, কুয়েতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ১০০ জনেরও বেশি ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় এমপি পাপুলের নামও ছিল। মার্চের শেষ দিক থেকে কুয়েতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস ও আরব টাইমস সংসদ সদস্যসহ বাংলাদেশের মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের তিন জন মানব পাচারকারীকে ধরতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্যের অবৈধ ভিসার ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তার কোম্পানি যাতে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পায় সেজন্য ঐ সংসদ সদস্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঘুষ হিসেবে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছেন।
দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, ২০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েতে পাচার করে ঐ চক্রটি ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তখন দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, পাপুল এই তিন জনের মধ্যে একজন। সেখানে গ্রেফতার অভিযান শুরুর আগেই তিনি দেশে চলে আসেন। পরে আবার কুয়েতে যান।
পাপুলের ফেসবুক ও ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপ অব কোম্পানিজ, কুয়েত, ওমান ও জর্ডানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটি জনশক্তি রপ্তানিতে যুক্ত। এছাড়া তিনি বেসরকারি খাতের ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কোম্পানির চেয়ারম্যান। স্বতন্ত্র এই সংসদ আওয়ামী লীগ কুয়েতের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, বাংলাদেশ কমিউনিটি কুয়েতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেন।
