l ফয়জুল আল আমীন
লবঙ্গ বা লং এক প্রকারের মসলা। খাদ্যদ্রব্যে মসলা হিসাবে এটি ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গ খুবই ঝাঁঝালো, উপাদেয় ও ঘ্রাণময় একটি মসলা। এর রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ। সাধারণত রান্নার সময় এই মসলাটি ফোড়ন হিসেবে ব্যবহূত হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম লংয়ে ৬৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৩ গ্রাম লিপিড, ২ গ্রাম সুগার, ২৭৪ কিলোক্যালরি এবং ৩৩ গ্রাম খাদ্য আঁশ থাকে। এছাড়াও থাকে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিংক, থিয়ামিন, রিবোফ্লেভিন, নিয়াসিন, ফোলেট, ভিটামিন সি, বি৬, বি১২, এ, ই, ডি এবং ভিটামিন কে। সেইসঙ্গে লবঙ্গে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-কারসিনোজেনিক, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়া, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটোরি, হেপাটো-প্রোটেক্টিভ সহ আরও অনেক বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান পাওয়া যায়।
এখানে লবঙ্গের কিছু ভেষজ গুণ তুলে ধরা হলো—
হজম ক্ষমতা বাড়াতে :হজমে সহায়তা করে এমন এনজাইম নিঃসরণের মাধ্যমে লবঙ্গ আমাদের হজম ক্ষমতা বাড়ায়। লবঙ্গের উপকারিতা আরও ভালোভাবে পেতে এটি পিষে, ভেঁজে, গুঁড়া করে বা মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে :ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না। আর লবঙ্গের রস শরীরের ভেতরে ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
মুখের রোগে : মাড়ির সমস্যায় লবঙ্গ ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। লবঙ্গের মুকুল (মাথার অংশ) ওরাল প্যাথোজেনের বৃদ্ধি রোধ করে আমাদের মুখকে সকল রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। মাড়ির ক্ষয় রোধেও এরা সাহায্য করে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও লবঙ্গ তুলনাহীন।
মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে :মাথাব্যথা কমাতে কয়েক ফোটা লবঙ্গ তেল একটি কাপড়ে বা টিস্যুতে দিয়ে কপালে ১৫ মিনিট ধরে রেখে সরিয়ে ফেলুন।
দাঁত ব্যথায় :দাঁত ব্যথায় কয়েকটি লবঙ্গ থেঁতো করে আক্রান্ত স্থানে দিয়ে রাখুন, তাতে ব্যথার নিশ্চিত উপশম হবে।
বমি ভাব হলে :বমি বমি ভাব দূর করতে গুঁড়ো লবঙ্গের সাথে মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। গর্ভবতী মায়েরা সকালের বমি বমি ভাব দূর করতে লবঙ্গ চুষতে পারেন।
ঠান্ডা লাগলে :সাধারণ ঠান্ডা লাগা হোক কিংবা অ্যাজমা, সাইনাস ইত্যাদির সমস্যায় দিনে কয়েক কাপ লবঙ্গ চা খেলে বেশ উপকার পাবেন।
উত্কণ্ঠা অনুভবে :এক টুকরো লবঙ্গ চুষে চুষে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন, মেজাজ ফুরফুরে হয়ে ওঠবে।
