আমদানি-রপ্তানি শুরু
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
দীর্ঘ ৭৫ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও রবিবার দুই দেশের প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে পৃথক দুটি বৈঠকের পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে রবিবার রাতেই একটি কনসাইনমেন্টের ২৪টি পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে সোমবার সকাল থেকে নিয়মিত পণ্যবাহী ট্রাক আসতে থাকে। তবে দাপ্তরিকভাবে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরুর কথা বলা হলেও বাস্তবে শুধু আমদানি হচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৩ মার্চ থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত ২৪ এপ্রিল আমদানি-রপ্তানি চালুর অনুমোদন দিয়ে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমতি না থাকায় দীর্ঘদিন সড়কপথে বন্ধ ছিল ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার চিঠি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে স্থলবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুরুর অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এছাড়াও বনগাঁর সিন্ডিকেটের কারণেও বাণিজ্যে জটিলতা দেখা দেয়। পরে রেলওয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু স্থলপথে আমদানি-রপ্তানির জন্য চাপ সৃষ্টি করে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকার শ্রমিকসহ ট্রাকমালিক ও চালকরা। বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে বৈঠকে বসে আমদানি-রপ্তানি চালু করতে রাজি হয় ভারতের প্রশাসনসহ বনগাঁ সিন্ডিকেট।
করোনার সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা থাকায় সীমান্ত অতিক্রমের আগেই গাড়িচালকদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও ট্রাকগুলো স্যানিটাইজ করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। ফেরার সময়ও চালকদের শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়। যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। আমদানি পণ্যের মধ্যে গার্মেন্টস সামগ্রী, শিল্পকারখানা ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মূলধনী যন্ত্রপাতি, কেমিক্যালস, খাদ্যদ্রব্য, চাল, পেঁয়াজ, তুলা, বাস, ট্রাক চেসিস, মোটরসাইকেল ও পার্টস এবং টায়ার রয়েছে। রফতানি পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত দ্রব্য, সাদা মাছ, ব্যাটারি, ওভেন গার্মেন্টস, নিট গার্মেন্টস, নিটেড ফেব্রিকস, কটন র্যাগস (বর্জ্য কাপড়) উল্লেখযোগ্য।
হিলিস্থল বন্দরেও কার্যক্রম শুরু
হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
বাংলাহিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল হোসেন রাজ জানান, করোনার ভয়াবহতায় বাংলাদেশ ও ভারতে লকডাউন শুরু হলে গত ২৬ মার্চ থেকে এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যবসাবাণিজ্যসহ বন্দরের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য সচল রাখতে কয়েক দফা উদ্যোগ নেন। এরি পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল সোমবার ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও ভারতে রপ্তানি হয়েছে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
