মুক্তিযোদ্ধা তালিকা

বাতিল ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ফের বিতর্ক

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ২২:৫৮

বিমান বাহিনীর ৮১ ও বিজিবির ১ হাজার ১৩৪ মোট ১ হাজার ১৮১ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দেওয়ায় গুরুতর আইনি প্রশ্ন উঠেছে। আবার সর্বশেষ নতুন করে দেশের ৪১ জেলায় ১ হাজার ২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।

দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সালের ২১ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়েই তবে কাউকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন। তাই বিদ্যমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার আওতা বহির্ভূত থাকবেন সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা।

কিন্তু এ প্রজ্ঞাপন রহিত না করে মন্ত্রণালয় সকল বাহিনীতে একটি চিঠি পাঠায়। এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের পর সশস্ত্র বাহিনীতে যেসব কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধার সুযোগসুবিধা নিচ্ছেন তাদের তালিকা যেনো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ নির্দেশনা অনুযায়ী বিমান বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঐ তালিকা পাঠায়। যার ফলশ্রুতিতে ও তালিকা ধরে মন্ত্রণালয় তাদের সবার সনদ বাতিল করে বৃহস্পতিবার। সেনা, নৌ কিংবা পুলিশ বাহিনী কোনো তালিকা পাঠায়নি ২০১৭ সালের ২১ জুনের প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করে।

এক জন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এটাতো রীতিমত তুঘলকি               কারবার। সশস্ত্র বাহিনীর অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে আছেন। তারা চাকরিতে ফিরতে পারেননি তাই বলে তাদের মুক্তিযোদ্ধার সম্মান কেড়ে নেওয়া যায় না। তাছাড়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এ জাতীয় সুপারিশ করে বেআইনী কাজ করেছে যেটিকে মন্ত্রণালয় বৈধতা দিয়েছে। ২১ জুনের আদেশেই বলা আছে যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে বিতর্ক দেখা দেয় তবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এটিকে পাশ কাটান হয়েছে। তিনি মনে করেন এর ফলে সামরিক মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হবেন এবং মামলা মোকদ্দমার উদ্ভব হবে।

এদিকে নতুন করে ১ হাজার ২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশ্নকারীরা বলছেন, নতুন যাদের মুক্তিযোদ্ধা করা হয়েছে আগে একাধিকবার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কালোতালিকাভুক্ত হয়ে আছেন। তাছাড়া তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায় কোনো কোনো উপজেলা থেকে ৩০ থেকে ৪০ জন নতুন মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। স্বাধীনতার পর অন্তত পাঁচ বার তালিকা হয়েছে কিন্তু কোনো তালিকায় তারা আসেননি। এতদিন পর কীভাবে তারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আসলেন তা রীতিমত বিস্ময়কর।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্কের পর বিতর্ক চলছেই। এর আগে সর্বশেষ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ নিয়ে বিতর্কের জেরে তা স্থগিত রাখা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধার সঠিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবেন এমন ঘোষণা দিলেও তাতো হয়নি বরং নতুন বিতর্ক উসকে দেওয়া হলো বলে পর্যবেক্ষকমহলের মত।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মন্ত্রণালয়ের যে ক্ষমতা তা প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনো ভুল থাকলে ক্ষতিগ্রস্তরা আপিল করতে পারবেন। করোনা দুর্যোগের মধ্যে তালিকা প্রকাশ জরুরি কি না—মন্ত্রী বলেন এত রুটিন কাজ। কোনো বাহিনীতে অমুক্তিযোদ্ধা থাকলে তাদের সনদ বাতিল করা যাবে না কেনো? উপজেলা জেলা পর্যায়ে অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধাকে অমুক্তিযোদ্ধা করার ক্ষেত্রে কমিটির কেউ কেউ প্রভাব খাটায় কি না সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।