১৯৭২ সালের বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোই এবারের বাজেটের মূল ভিত্তিভূমি হওয়া দরকার। কেবল রাজস্ব নীতির ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। রাজনীতি ও মুদ্রানীতির সমন্বয় থাকতে হবে। কৃষি খাত, শিল্প, স্বাস্থ্য , শিক্ষা, সিএসএমই (কটেজ, স্মল, মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ) খাত, গ্রামকে স্মার্ট শহর বানানোর খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বাজেট প্রণয়নের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কী পরিমাণ অর্থ দাতা গোষ্ঠীর কাছ থেকে পাব, কী পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারব এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা কতটুকু অর্থ পাঠাতে পারবে। বাদবাকি অর্থ মুদ্রানীতির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। পুঁজিবাজারের জন্য সহায়ক ভূমিকা ও দিকনির্দেশনা অবশ্যই প্রস্তাবিত বাজেটে থাকতে হবে। এজেন্ট ব্যাংকিং যে পরিমাণ অর্থ গ্রামীণ এলাকা থেকে সংগ্রহ করে থাকে, তার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত যাতে গ্রামীণ অঞ্চলে বিনিয়োগ করে, সে জন্য নির্দেশিকা প্রস্তাবিত বাজেটে থাকতে হবে। গ্রামীণ অঞ্চলে যদি বিনিয়োগ না হয়, তবে স্থানীয় পর্যায়ের পুঁজির সঙ্কট হবে। ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রধান সহায়ক ভূমিকা হবে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে। এ জন্য প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কর্মকাণ্ডেও স্বচ্ছতা, সততা এবং নৈতিকতার প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই সরকারকে অর্থ বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
