মালিবাগে বিক্ষোভ ভাঙচুর গাড়িতে আগুন

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৯

রাজধানীর মালিবাগে যাত্রীবাহী বাসচাপায় ২ গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন: নাহিদ পারভিন পলি (১৯) ও  মিম (১৩)। তারা মালিবাগের এমএইচ গার্মেন্টসে কাজ করতেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আবুল হোটেল সংলগ্ন ড্রাগন গার্মেন্টসের সামনে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় তাদের মৃত্যু হয়। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত মিম বগুড়ার গাবতলী থানার হোসেনপুর গ্রামের সোনা মিয়ার মেয়ে। আর নাহিদ পারভীন পলি সাতক্ষীরার বাসিন্দা। তারা মগবাজারের পূর্ব নয়াটোলায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

এদিকে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আশপাশের কয়েকটি গার্মেন্টসের কয়েকশ পোশাক শ্রমিক মালিবাগ-রামপুরা সড়ক অবরোধ করে। সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধরা সড়কে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুরসহ দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে শ্রমিকদের ছোড়া ইট-পাটকেলে ডিএমপির মতিঝিল জোনের এডিসি নাজমুন নাহার আহত হয়েছেন। অবরোধের কারণে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত সড়কটিতে সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে  রাতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টারগামী যাত্রীবাহী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস আবুল হোটেলের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় পলি ও  মিমকে চাপা দেয় । এসময় মিম ঘটনাস্থলে মারা যায়। স্থানীয় লোকজন পলিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের অন্যান্য বেশ কয়েকটি গার্মেন্টসের কয়েকশ শ্রমিক রামপুরা সড়কে নেমে আসে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে রাস্তায় চলাচলরত বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পরিদর্শক মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, সন্ধ্যা পৌনে ৬ টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বাধা দেয়। প্রায় আধা ঘন্টা পর পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। ততক্ষণে আগুনে গাড়ি দুটি পুড়ে যায়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের রামপুরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) লুবনা মোস্তফা বলেন, সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার দিয়ে নেমে রামপুরার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি ফ্লাইওভার দিয়ে নামার সময় সড়ক পারাপাররত দুই নারীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অপরজনের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই বাসটি জব্দ করে এর চালককে আটক করা হয়েছে। তবে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বাসের কাগজপত্র ঠিক আছে। কিন্তু সহকর্মীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর আশপাশের অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মালিবাগ-রামপুরার প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে অনন্ত ২০টি যানবাহন ভাঙচুরসহ দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসি লুবনা আরো জানান, শ্রমিকদের ছোড়া ইটে মতিঝিল জোনের এডিসি নাজমুন নাহার আহত হয়েছেন। তার চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথমে তাকে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে নেয়া হয়েছে।    

হাতিরঝিল থানার ওসি আবু মো. ফজলুল করিম জানান, ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।