মহাস্থানগড়ের ভাসুবিহারে মিলেছে দশম শতকের চারটি বৌদ্ধ স্তূপ

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২২

মহাস্থানগড়ের ভাসুবিহার খনন ও অনুসন্ধানকালে চারটি বৌদ্ধ স্তূপ মিলেছে। ওই স্তূপ দেখার জন্য প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ভাসুবিহারে ভিড় করছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গত দুই মাস ধরে খনন কাজে এটি বেরিয়ে আসে।

বিহারের সামনের অংশ খননকালে একই প্লাটফর্মে চারটি বৌদ্ধ স্তূপ উন্মোচিত হয়। এই স্তূপগুলো দশম থেকে একাদশ শতকে নির্মাণ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মং এবং বরেণ্য বৌদ্ধদের স্মরণে স্তূপগুলো নির্মাণ করা হয় বলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

আট সদস্য বিশিষ্ট টিম এই খনন কাজ পরিচালনা করে। টিমের সদস্যরা হলেন— প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা, সহকারী পরিচালক মজিবর রহমান, সহকারী কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ, সহকারী কাস্টডিয়ান হাসনাত বিন ইসলাম, সিনিয়র ড্রাফ্সম্যান আফজাল হোসেন মন্ডল, সার্ভেয়ার লোকমান হোসেন, সার্ভেয়ার মুরশিদ কামাল ভুঁইয়া ও ফটোগ্রাফার আবুল কালাম আজাদ।   

মহাস্থানগড় থেকে চার মাইল উত্তর-পশ্চিমে এবং বিহার বৌদ্ধ স্তূপ হতে এক মাইল উত্তরে ভাসুবিহার  বা বিশ্ববিহার অবস্থিত। ভাসুবিহার স্থানীয়দের কাছে নরপতির ধাপ নামেও পরিচিত। সম্রাট হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ৬৩৮ সালে চীনা পরিব্রাজক হিউএনসাঙ্ এই স্থান পরিদর্শনে আসেন এবং এই বিহারে তিন মাস অবস্থান করেন। এই বিহারে একটি সুউচ্চ দ্বিতল বা ত্রিতল অথবা চারতল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখানে সাত শতাধিক বৌদ্ধ পন্ডিত আবাসিক হোস্টেলে অবস্থান করে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯-৮০ সালে ভাসুবিহার পরিদর্শন করেন। তিনি এটিকে হিউএনসাঙ্ বর্ণিত স্থান হিসেবে চূড়ান্তভাবে সনাক্ত করেন।

এগারো শতকে শৈবধর্মীদের উত্থানের ফলে বৌদ্ধদের প্রতি ঘৃণা, অবজ্ঞা ও শত্রুতায় বৌদ্ধরা ধর্মহীন সমাজে পরিণত হয়। ফলে ভাসুবিহারের চারতলা প্রাসাদটি পরিত্যক্ত হয়। দুর্বল পাল রাজাদের অনেকে রাজত্ব ছেড়ে শেষ জীবনে এখানে সেবক হিসেবে বসবাস করতে থাকে। সে জন্য এই বিহারের নাম হয় নরপতির ধাপ। পাল বংশ বিনাশপ্রাপ্ত হলে পতিত অবস্থায় বিহারটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়। ১৯৭৩-৭৪ সালে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত বিহারটি প্রথমবারের মত খনন করা হয়। বিভিন্ন সময়ে ভাসুবিহার ধাপ খনন করে সাত শতাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। 

সহকারী পরিচালক মজিবর রহমান জানান, প্রভাবশালী ও গুণী বৌদ্ধদের স্মরণে তাদের মাথার চুল ও দেহভস্ম এই বৌদ্ধ স্তূপে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। খনন কাজ ও অনুসন্ধান আরো কিছুদিন চলবে বলে তিনি জানান।