করোনার মতো মহামারি ভবিষ্যতে আরো আসবে

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ২১:৫০

বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা

বিবিসি

মানুষ যে সভ্যতা গড়ে তুলেছে তাতে বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে রোগ সংক্রমণ এবং তারপর তা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার ?‘নিখুঁত ব্যবস্থা’ তৈরি হয়েছে। এর ফলে করোনা ভাইরাসের মতো মহামারি আগামীতে আরো আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

কোথায় এবং কীভাবে নতুন রোগের বিস্তার ঘটে তা নিয়ে গবেষণা করেন ইউরোপ, আমেরিকার অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। এরকম একটি গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ বেলিস বলেন, ‘গত ২০ বছরে আমরা ছয়টি বড়ো বড়ো হুমকির সম্মুখীন হয়েছি: সার্স, মার্স, ইবোলা, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং সোয়াইন ফ্লু। আমরা পাঁচটি বুলেট এড়াতে পেরেছি, কিন্তু ছয় নম্বরটার হাত থেকে বাঁচতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড়ো কথা এটাই যে আমাদের সম্মুখীন হওয়া শেষ মহামারি, তা মোটেও নয়।’

গবেষণার অংশ হিসেবে বেলিস ও তার সহযোগীরা একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যাতে এসব রোগ বিস্তারের প্রক্রিয়ায় কী কী সাদৃশ্য দেখা যায়, তা চিহ্নিত করা সম্ভব। একে বলে প্যাটার্ন রিকগনিশন। এ পদ্ধতির ফলে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব কোন কোন বন্যপ্রাণী মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অধ্যাপক বেলিস বলেন, ‘আমাদের বন্যপ্রাণী থেকে মানবদেহে আসা রোগগুলোর দিকে আরো গভীরভাবে নজর দিতে হবে। আমরা এখন পৃথিবীতে মহামারি ছড়ানোর জন্য প্রায় আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেলেছি।’

এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট বা পরজীবী এবং ভাইরাস সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। অধ্যাপক বেলিসের পদ্ধতি দিয়ে এই অণুজীবগুলো যেসব প্রজাতির প্রাণীকে সংক্রমিত করতে পারে, তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সূত্রগুলো চিহ্নিত করা যাবে। এই সূত্রগুলো দিয়ে আবার এটাও বোঝা যাবে, কোন কোন অণুজীব মানুষের জন্য বড়ো হুমকি হয়ে উঠতে পারে। যদি এভাবে কোনো প্যাথোজেন অর্থাত্ রোগ-সৃষ্টিকারী অণুজীব চিহ্নিত হয়, তাহলে বিজ্ঞানীরা কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব হবার আগেই তা ঠেকানোর চেষ্টা চালাতে পারবেন।

বিজ্ঞানীরা একমত যে বন ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণীর আবাসভূমিতে মানুষের ঢুকে যাওয়ার ফলে এখন ঘন ঘন এবং সহজেই প্রাণী থেকে মানুষে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক কেট জোনস জানান, মানুষ যেভাবে ইকোসিস্টেমকে বদলে দিয়ে কৃষি বা বৃক্ষরোপণ করছে, তাতে জীববৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে এবং মানুষের নানা সংক্রমণে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বাড়ছে। কিছু বন্যপ্রাণী যারা মানুষের উত্পাতের ব্যাপারে সবচেয়ে সহিষ্ণু, যেমন কিছু প্রজাতির ইঁদুর, তারা অনেক সময় রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব ছড়ানোর ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা রাখছে।’