২০১৯-এর প্রথম দিনে বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজার ৪২৮ শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। বিশ্বজুড়ে জন্মগ্রহণ করে প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭২ শিশু। ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
গতকাল ঘড়ির কাঁটা যখন মধ্যরাত নির্দেশ করে তখন সিডনিতে আনুমানিক ১৬৮, টোকিওতে ৩১০, বেইজিংয়ে ৬০৫, মাদ্রিদে ১৬৬ ও নিউইয়র্কে ৩১৭ শিশু জন্মগ্রহণ করে।
ফিজিতে ২০১৯ সালের প্রথম শিশুটির জন্ম হয়। প্রথম দিনের শেষ শিশুর জন্ম হবে যুক্তরাষ্ট্রে। নতুন বছরের প্রথম দিনে বিশ্বে জন্ম নেওয়া শিশুদের এক চতুর্থাংশের জন্ম হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। বৈশ্বিকভাবে বছরের প্রথম দিনে যত শিশুর জন্ম হবে তার প্রায় অর্ধেকের বেশি হয় আটটি দেশে। এ সময় ভারতে ৬৯ হাজার ৯৪৪ জন, চীনে ৪৪ হাজার ৯৪০, নাইজেরিয়ায় ২৫ হাজার ৬৮৫, পাকিস্তানে ১৫ হাজার ১১২, যুক্তরাষ্ট্র ১১ হাজার ৮৬ শিশু জন্মগ্রহণ করে। তবে বেশ কয়েকটি দেশে অনেক শিশুর নাম রাখাও সম্ভব হবে না। কারণ এই শিশুরা তাদের জীবনের প্রথম দিনটি পার করার আগেই মারা যাবে।
২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ শিশু জন্মের প্রথম দিনেই এবং প্রায় ২৫ লাখ শিশু তাদের জীবনের প্রথম মাসেই মারা যায়। মৃত্যুর কারণ হলো- অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ, প্রসবকালীন জটিলতা, দূষণ ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ প্রভৃতি। যা তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক শার্লট পেত্রি গোর্নিত্জকা বলেন, আসুন, নতুন এই বছরের প্রথম দিনে আমরা সবাই প্রতিটি শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ও প্রতিটি অধিকার পূরণে সংকল্পবদ্ধ হই। আর এটা শুরু করি শিশুদের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমেই। ২০১৯ সালে শিশু অধিকার বিষয়ক সনদ গ্রহণের ৩০ বছর পূর্তি হবে। সনদের আওতায় সরকারগুলো আরও অনেক কিছুর পাশাপাশি মানসম্মত উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেক শিশুর জীবন বাঁচানোর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, গত তিন দশকে শিশুমৃত্যুর হার কমায় বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়ে বিশ্বব্যাপী পঞ্চম জন্মদিনের আগেই শিশু মৃত্যুর হার অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। তবে নবজাতকদের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতির হার কম।
