বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সবচেয়ে বড়ো পরিচয় হলো, তিনি সাকিব আল হাসানের ছেলেবেলার গুরু, মেন্টর। বিকেএসপির সাবেক ছাত্র সালাউদ্দিন এখন দেশের অন্যতম সফল ও অভিজ্ঞ কোচ। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হকের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সাফল্যে তার ছায়া স্পষ্ট।
একটা সময় টাইগারদের ড্রেসিংরুমের অংশ ছিলেন সালাউদ্দিন। জেমি সিডন্সের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ ও পরে খণ্ডকালীনভাবে জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হওয়ার বড়ো স্বপ্নটাও মনের গহিনে লালন করেন সালাউদ্দিন।
তবে এখনই সেই পদে নিজেকে দেখছেন না তিনি। বিকেএসপিতে তার সরাসরি ছাত্র থেকে জাতীয় দলে খেলা সাকিব, তামিম, মুশফিকদের প্রজন্ম অবসরে না যাওয়া পর্যন্ত এই বড়ো পদে কাজের ইচ্ছা নেই তার। সাকিবরা চলে যাওয়ার পরই টাইগারদের হেড কোচের গুরুভার পালন করতে চান তিনি। মূলত এই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গভীরতার কারণে এখন হেড কোচের দায়িত্ব নিজের জন্য সুখকর হবে না মনে করছেন সালাউদ্দিন।
গত বুধবার রাতে এক ফেসবুক লাইভে বাংলাদেশের হেড কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই স্বপ্ন তো সবাই দেখে। আমিও যে দেখি না তা না, সবাই দেখে। ইচ্ছা তো সবারই আছে।’
বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে দুইবার শিরোপা এনে দেওয়া সফল কোচ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমার মনে হয় যে আগামী বা সামনের কিছু বছর এটা নিয়ে চিন্তা করাটা খুব কঠিন। বিশেষ করে আমার জন্য। তামিম, সাকিব, মুশফিকরা যত দিন খেলবে এত দিন কোচ না হওয়াটা আমার জন্য ভালো। কারণ, এদের সঙ্গে সম্পর্কটা এত কাছের প্রধান কোচ হলে সবদিক দিয়ে কথা হতেই পারে। আমাদের সম্পর্কটা অনেক কাছের, তাই এখান থেকে প্রধান কোচ হওয়াটা আমি মনে করি না আমার জন্য বা দলের জন্য ভাল কিছু হবে।’
সাকিব-তামিমদের অবসরের আগের এই সময়ে কোচ হিসেবে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করতে চান সালাউদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের কোচ হওয়া অনেক সম্মানের ব্যাপার। সেই ব্যক্তিত্ববোধটাও নিজের মধ্যে লাগবে। এখন সাকিব-তামিমদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক এই ব্যক্তিত্ব কোচের ভূমিকার সঙ্গে যায় না। পরবর্তী যুগের সঙ্গে হয়তো সম্ভব হতে পারে। আমাদের জন্য এবং কোচিংয়ে আমার জন্য আরো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। তারপর হয়তো চিন্তা করব এই ভূমিকা পালন করা যাবে কি যাবে না। কিন্তু ইচ্ছা তো আছে, কার না থাকে।’
