করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতির সময়ে যেমন বাজেট দেওয়ার দরকার ছিল ঠিক তেমনটা হয়নি। এ সময়ে যেসব খাতে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার যেমন, মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা, বেকার সমস্যার সমাধান যেসব খাতে গুরুত্ব যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি। এটা করার জন্য একটা অ্যাকশন প্লান দরকার ছিল। সেটা না করে সরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে ছোটার মানসিকতা এখনো পরিহার করতে পারেনি। ফলে সেই গতানুগতিক ধারায় বিশাল রাজস্ব আয়, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। মহামারির এই বিশেষ সময়ে সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা নেই।
এবাবের বাজেটের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল; উচ্চ প্রবৃদ্ধি নয়, সচল অর্থনীতি। বাজেট প্রণয়নের গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে আসার দরকার ছিল। করোনার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হতো। আর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পূর্ণাঙ্গ অ্যাকশন প্লান বাজেটে সুস্পষ্টভাবে দেওয়ার দরকার ছিল।
বাজেট বাস্তবায়নের জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন সেটা নেই। এজন্য ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশ বিনিয়োগ হওয়ার দরকার। এখন বিনিয়োগ হচ্ছে ২২ থেকে ২৩ শতাংশ। সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য এ সংস্কার দরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কিভাবে সংস্কার করবে সে বিষয়ে কিছু বলা নেই।
স্বাস্থ্য, কৃষিসহ যেসব খাতে বরাদ্দ যা দেওয়া হয়েছে তার সুফল নির্ভর করবে খরচের গুণগত মাণের ওপর।
