সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুত্ বিতরণ বড় চ্যালেঞ্জ -------------বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:২১

বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, সাশ্রয়ী ও গ্রহণযোগ্য মূল্যে বিদ্যুত্ বিতরণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এটি একটি বড় চ্যালঞ্জও। বার বার বিদ্যুত্ ও গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে এক্ষেত্রে একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ শুধু বিদ্যুত্ উত্পাদন ও আমদানিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, রপ্তানিতেও মনোযোগ দিবে। আগামী বছরের শীতেই নেপালে বিদ্যুত্ রপ্তানি করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গতকাল তিনি প্রথমবারের মত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এই সময় বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ এবং পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজি আসছে, জ্বালানি তেলে বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে, বিদ্যুত্ ও জ্বালানিতে বহুমুখী জ্বালানির সংযোজন হচ্ছে। ফলে সবকিছু বিবেচনা করে মানুষকে সহনীয় মূল্যে অব্যাহতভাবে বিদ্যুত্ বা জ্বালানি সরবরাহ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নসরুল হামিদ বলেন, গত দশ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৯৪ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে গেছে। একইসঙ্গে এলপিজির ব্যাপক সম্প্রসারণ হয়েছে। এখন এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলে বিদ্যুত্ ও জ্বালানিখাত স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে মনে করছি। তিনি বলেন, প্রতিদিন চাহিদা বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশ চাহিদা বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রকল্পের জন্য অর্থের সংস্থান করা? বিদ্যুত্ ও জ্বালানিখাতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের এই বিপুল বিজয়ের ফলে বড় বড় দেশগুলো সরকারের প্রতি আস্থা রাখবে। ফলে অর্থায়ন নিশ্চিত করা কঠিন বিষয় হবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান আবারও সংশোধন করে কোন্ জ্বালানিতে কতটুকু বিদ্যুত্ নেবো তা ঠিক করতে হবে? সামপ্রতিক সময়ে ভারতের আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুত্ বাণিজ্য নীতিমালা সংশোধন করে প্রতিবেশীদের তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ আরো সাশ্রয়ী মূল্যে ভারতের বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি করতে পারবে। একইসঙ্গে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যে আন্তঃদেশীয়  গ্রিডলাইন নির্মাণ করা হবে তা দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ওই দুইটি দেশে বিদ্যুত্ রফতানি করতে পারবে।