জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৪

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত জনপদ হারাগাছ পৌরসভা সীমান্তে ধুম নদীর ওপর পাকা ব্রিজ না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে পৌরবাসী ও সারাই ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে নড়বড়ে ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। 

প্রতি নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিরা এই এলাকার মানুষের কাছে পাকা ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর ওয়াদা ভুলে যান। স্বাধীনতার চার দশক পেরিয়ে গেলেও যোগাযোগ ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানকার গ্রামে। 

স্থানীয় লোকজন জানায়, 'উপজেলার হারাগাছ পৌরসভায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ধুম নদীতে উত্তর-দক্ষিনে প্রায় ৬শ ফুট দৈর্ঘ্য, ৪ ফুট প্রস্থের তৈরি বৃহৎ নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মেনাজ বাজার, উত্তর ধুমেরকুটি, বাংলাবাজার, মাছুয়াটারী ও সারাই ইউনিয়নের ধুমেরকুটি, ভিতরকুটি, বালাপাড়া, মাছহাড়ী গ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে।  

গোটা বছর ধুম নদীতে পানি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সরু বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় এলাকার মানুষকে। সাঁকোর উভয় পাশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং হাট-বাজার থাকায় জনগুরুত্বপূর্ন এই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। সাঁকোর ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল ছাড়া, রিকসা-ভ্যান ও কোনো মটরযান চলাচল করতে পারে না।

ধুম নদীর হারাগাছ পাড়ে ধুমেরকুটি ও ইসলামীয়া  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুমেরকুটি মাদ্রাসা, আলেফ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নদীর দুপাড়ে প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী নদীর ওপার থেকে আসে। বর্ষাকালে নদীতে পানি বেশি হলে সরু বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে অনেক অভিভাবক ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পায়। 

ধুমেরকুটি গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক আজহার আলী জানান, 'দীর্ঘদিন ধরে ধুম নদীর উপর ব্রিজ নির্মিত না হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আর লাভবান হচ্ছে একশ্রেণীর ফড়িয়া পাইকাররা।'

হারাগাছ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহম্মদ আলী জানান, 'ধুম নদীতে সেতুর অভাবে প্রায় তিনযুগ পূর্বে দুই পাড়ের লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে চাঁদা উঠিয়ে বাঁশ ক্রয় করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও সংস্কারের অভাবে সাঁকোটি ভেঙ্গে গিয়ে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাঁকো নড়বড়ে হয়ে পড়ায় এলাকার মানুষেরা পারাপার হতে গিয়ে কোন না কোন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।'

ভিতরকুটি গ্রামের আলফাজ আলী বলেন, 'স্থানীয় প্রতিনিধিরা ভোটের আগে ওই এলাকার মানুষের কাছে ব্রিজ নির্মাণের শুধু আশ্বাস প্রদান করে, ব্রিজ আর নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষরা কষ্টে নড়বড়ে সাকো পারাপার হচ্ছে।'

আরও পড়ুনঃ ভোটার উপস্থিতি ও বিরোধীদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের প্রতি আকাঙ্খার বহিঃপ্রকাশ: নির্বাচন নিয়ে ইইউর প্রতিক্রিয়া

হারাগাছ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাহবুবর রহমান বলেন, 'ধুম নদীতে ব্রিজ নির্মাণ করে অবহেলিত এলাকার বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে যোগাযোগ ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করতে ইতিমধ্যে ব্রিজ নির্মানের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে।'

ইত্তেফাক/নূহু