করোনাকালে দেশের তিন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে গাদাগাদি করে বাস করছে শিশুরা। যারা বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আদালতের নির্দেশে সেখানে আটক রয়েছে। করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেয় সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর তিন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করে। সেই তালিকা পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। পাশাপাশি দেশের শিশু আদালতগুলোতে। এরপরই মামলার গুরুত্ব বিচার করে শিশু আদালতের ভার্চুয়াল কোর্টগুলো এ পর্যন্ত ৪৮৯ শিশুকে জামিন দিয়েছেন। এদের মধ্যে জামিনে মুক্ত ৪৬০ জন শিশুকে হস্তান্তর করা হয়েছে পরিবারের কাছে। এ কাজে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে সহায়তা করেছে ইউনিসেফ।
সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, দেশের তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশু ধারণক্ষমতা ৬০০ জন। ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর আগে পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছিল ১ হাজার ১৪৭ জন শিশু। গত ২০ কার্যদিবসে ৪৮৯ জন শিশুকে জামিন দিয়েছে আদালত। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরেও কেন্দ্রগুলোতে ৮৮০ জন শিশু রয়েছে। অর্থাত্ ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৩০০ জন শিশু বেশি রয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩০০ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে রয়েছেন ৫৫০ জন। যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ১৫০ জনের বিপরীতে অবস্থান করছে ২৩৯ জন। আর গাজীপুরের কোনাবাড়ি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ১৫০ জন মেয়েশিশু থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেখানে রয়েছে ৯১ জন।
এ প্রসঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠান শাখার উপপরিচালক এম এম মাহমুদুল্লাহ ইত্তেফাককে জানান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ শিশু রয়েছে। কেন্দ্রের কোনো শিশু যাতে করোনায় আক্রান্ত না হয় সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। কিন্তু ধারণক্ষমতার বেশি শিশু থাকায় সামজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে নতুন কোনো শিশু আদালতের মাধ্যমে উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হলে তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা শাবনাজ জাহেরিন ইত্তেফাককে বলেন, করোনাকালে বিচারাধীন যেসব শিশু জামিনে মুক্তি পেয়েছে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটসের প্রধান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন কমিটি ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় শিশু আদালতের বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক থাকা শিশুদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে বলা হয়। স্পেশাল কমিটি তাদের নেওয়া এসব পদক্ষেপ সময়ে সময়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে অবহিত করে তার অভিমত গ্রহণ করে পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করেন।
