করোনা ভাইরাসের প্রভাব

কোরবানির গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

আপডেট : ১২ জুন ২০২০, ২২:৫৭

প্রতি বছর খামারিদের গরু বিক্রির একটি বড়ো উপলক্ষ্য থাকে কোরবানির ঈদ। সেভাবেই তারা খামারের গরু প্রস্তুত করেন। লাভের আশায় স্বপ্ন বুনেন। কিন্তু এবার নোভেল করোনা ভাইরাসের মহামারিতে তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। লাভ তো দূরের কথা পুুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে না—তো ? এই জিজ্ঞাসা এখন তাদের।

খামারিরা জানিয়েছেন, দুই মাসেরও কম সময় আছে কোরবানির ঈদের। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় তারা কি করবে বুঝে উঠতে পারছেন না। করোনা সংকটে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। অনেকের চাকরি নেই। বেসরকারি চাকরিজীবীরা ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না। তাহলে কোরবানি দিবেন কি করে? খামারিদের আশঙ্কা, পশু বিক্রি এবার অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। আবার ক্রেতারা সাধারণত হাঁটে গিয়ে গরু কিনতে পছন্দ করেন। কিন্তু করোনা সংকটে মানুষ তো হাঁটেও যেতে পারবে না। তাহলে গরু কিনবে কীভাবে? এ প্রশ্নও খামারিদের?

নীলফামারির স্বপ্নচারী এগ্রোর অন্যতম দুই স্বত্বাধিকারী আসিফ ইকবাল তুহিন ও রিজওয়ানুর রহমান রিজন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, করোনার কারণে গত রমজানের ঈদেও গরু বিক্রি কম ছিল। কোরবানির ঈদ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। কারণ, অনেক খামারি আছেন যারা শুধু কোরবানি ঈদকে উপলক্ষ্য করেই গরু লালনপালন করেন। এক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশল বিজ্ঞানে পড়াশোনা করা এই দুই তরুণ উদ্যোক্তা বলেন, বড়ো গরু নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছে খামারিরা। যেসব গরুর দাম ৩/৪ লাখ টাকা থেকে শুরু সেসব গরুর ক্রেতা এবার  পাওয়া যাবে না। কারণ, করোনা সংকটের কারণে ব্যবসা নেই। ব্যবসা ভালো না থাকলে কীভাবে এত বড়ো গরু বিক্রি হবে?

বগুড়ার মরিয়ম এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ফিরোজ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, করোনা সংকটে দিন দিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। কীভাবে খামারের গরুগুলো বিক্রি করব বুঝতে পারছি না। এদিকে খাবারের দামও বেশি। এক প্রশ্নের জবাবে এই খামারি বলেন, এক কেজি ভুসি ৪০ টাকা, সয়ামিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা, চালের কুড়ার বস্তা ( ৫০ কেজি) ১২০০ টাকা, ভুট্টার কেজি ২২ টাকা। সবমিলিয়ে গরুর এক কেজি খাবার তৈরিতে ব্যয় হয় ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। এ অবস্থায় কোরবানিতে যদি গরু বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য না পাই তাহলে একদম পথে বসে যাব।

একই কষ্টের কথা জানিয়ে চট্টগ্রামের খামার ক্যাটেল গার্ডেন ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিংয়ের স্বত্বাধিকারী জাহিদ রবিন বলেন, এ বছর যদি গরু বিক্রি করতে না পারি তাহলে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

দেশের বড়ো খামারগুলোর মধ্যে অন্যতম ঢাকার মেঘডুবি এগ্রো। এই খামারের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক মাহমুদ জুপিটার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, করোনা সংকটে এবার গরু বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, মানুষ কীভাবে কোরবানি দেবে? যদি তার ব্যবসা না থাকে। অনেক চাকরিজীবী ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে এবার তারা গরুর ‘ভাগ’ বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যে অনেকেই এই ‘গরুর ভাগ’ কিনেছেন বলে তিনি জানান। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমাদের খামারে এসে গরু দেখে পছন্দ করে যার যতটুকু সামর্থ্য সে কয়টা ‘ভাগ’ কিনে রাখবেন। আমরা কোরবানি দিয়ে তার বাসায় ভাগের মাংস পাঠিয়ে দেব।

উল্লেখ্য, দেশে প্রতি বছর কোরবানিতে এক কোটিরও বেশি পশুর চাহিদা থাকে। এর প্রায় অর্ধেকই গরু। গত বছর কোরবানি উপলক্ষ্যে প্রায় ৪৫ লাখ গরু বিক্রি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে এবার কোরবানির পশু ৫ থেকে ১০ শতাংশ কম বিক্রি হতে পারে। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এ অবস্থা অনেকটাই পালটে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।