চট্টগ্রামে খুরারোগের ভ্যাকসিনের সংকট

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ২৩:০৭

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা সরকারি প্রাণিসম্পদ অফিসে গবাদিপশুর খুরা রোগের ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে খামারি ও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

ভ্যাকসিন সংকটের কথা তুলে ধরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালি উপজেলা থেকে স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, বর্ষা মৌসুম আসন্ন হওয়ায় তারা তাদের গবাদিপশু নিয়ে গভীর উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। কারণ এ সময় দুধের খামারের গরু এবং গৃহপালিত গরু-ছাগল ও অন্য পশু ক্ষুরা রোগ এবং মুখে ঘাঁয়ের মতো নানা ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মৌসুম শুরুর আগেই গবাদিপশু সুরক্ষার জন্য উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে ভ্যাকসিন নিতে গেলে সংকটের কথা জানতে পারেন খামারিরা। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, ভ্যাকসিনের মজুদ পর্যাপ্ত।

আনোয়ারার খামারি নূরুল আনোয়ার ইত্তেফাককে বলেন, ‘উপজেলায় ভ্যাকসিন সংকটে দরিদ্র কৃষক ও খামারিরা দিশেহারা। বড়ো খামারিরা ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনে তাদের গবাদিপশুর সুরক্ষা দিতে পারলেও গরিব কৃষক ও প্রান্তিক খামারিরা রয়েছেন গভীর   অনিশ্চয়তায়।’ আনোয়ারার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলওয়ার হোসেইন ইত্তেফাককে বলেন, ‘তার অফিসে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন আছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। গত সপ্তাহে তিনি জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে সাত বোতল এফএমডি ভ্যাকসিন এনেছিলেন। তা দুদিনেই শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া ছাগল-ভেড়ার খুরা রোগের পিপিআর টিকা মজুদ একটিও নেই।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি ভ্যাকসিনের একটি বোতল থেকে ১৬টি গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়। সে অনুসারে গত সপ্তাহে মাত্র ১১২টি গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া গেছে। অথচ পুরো উপজেলায় শুধু গরুর সংখ্যাই হচ্ছে ৫০ হাজার।’ তিনি বলেন, ‘দেশে উত্পাদিত ভ্যাকসিন প্রতিটি ৫০ থেকে ৬২ টাকা হলেও বিদেশি ভ্যাকসিন পাওয়া যায় ১০০ বা তারচেয়ে বেশি দামে। ফলে সাধারণ কৃষক ও খামারিরা এসব ভ্যাকসিন কিনতে পারছেন না।’

বাঁশখালি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সমরঞ্জন বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘তার উপজেলায় টিকা ও ভ্যাকসিনের চাহিদা বছরে আড়াই লাখ ডোজ। কিন্তু তিনি পাচ্ছেন মোট চাহিদার এক তৃতীয়াংশ মাত্র। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলায় গরুর সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৫, মহিষের সংখ্যা ২ হাজর ৩৩৯, ছাগলের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪৫৮, ভেড়ার সংখ্যা ৩ হাজার ১০০। এসব গবাদিপশুর নিরাপত্তার জন্য ভ্যাকসিন অত্যন্ত জরুরি।’ অপরদিকে সাতকানিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, তার কার্যালয়ে স্টক মোটামুটি রয়েছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন এনে রেখেছি। সংকটের কোনো কারণ নেই। কোথাও সংকট হলে সেখান থেকে খামারিরা জেলা কার্যালয়ে মোটরবাইকে করে এসে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারেন। এসব ভ্যাকসিন দেশে তৈরি।’