তিস্তায় বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-কৃষিজমি

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ২১:৩৫

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। আর এতে নিঃস্ব হচ্ছেন পূর্ব তালুক শাহাবাজ গ্রামের শত শত মানুষ। ইতিমধ্যেই অনেকে নদী ভাঙনের মুখে পরে শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তিস্তা ব্রিজের দক্ষিণ দিকে কয়েকটি ক্রস বাঁধ নির্মাণ করে নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে এই অসহায় মানুষদের রক্ষায় কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার পূর্ব তালুক শাহাবাজবাসী।

উপজেলার পূর্ব তালুক শাহাবাজের ক্ষিরোদ চন্দ্র জানান, ‘কি কমো ভাই নদী হামার সোগ নিয়া গেইছে’। একই গ্রামের অধিবাসী কাউনিয়া ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে স্থানীয় প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তাদের নিকট ক্রোস বাঁধের আবেদন করে অনেকবার স্মারকলিপি গ্রামবাসী দিয়েছেন। কিন্তু আজ অবদি এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। একরের পর একর ফসলি জমিসহ বসতবাড়ি ভাঙনের কবলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. উলফুত আরা বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত মানুষের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। মূলত উপজেলা প্রশাসনের নদীভাঙন রোধে কাজ করার কোনো এখতিয়ার নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর কাজ করে থাকে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, নদীতে নাব্যতা সঠিক না থাকায় তিস্তা এখন পাগলা নদীতে রূপ নিয়েছে। কখন কোথায় করালগ্রাসী রূপ নিয়ে ভেঙে চলছে তা নির্ণয় করা অসম্ভব। তবে তিস্তা সড়ক সেতু থেকে ভাটিতে চার কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন রোধে গাইট বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, তিস্তা নদী পারের গাইড বাঁধসহ বিভিন্ন প্রকল্প চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তিস্তা পারের মানুষের নদী নিয়ে আর কোনো চিন্তা করতে হবে না।