কবি রামপ্রসাদ বলেছেন, ‘মন রে কৃষি কাজ জান না। এমন মানব জনম রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা’। বাড়ির আঙিনাও এখন আর কোনো পতিত জায়গা নয়। সেখানেও আবাদ করে ভালো ফলন হচ্ছে। খুলনার রূপসা উপজেলার অনেক বাড়ির আঙিনা সবুজ শাকসবজির খেতে পরিণত হয়েছে। যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রতি ইঞ্চি জমির ব্যবহার এবং করোনা পরবর্তী খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসের আলাইপুর ব্লকের উদ্যোগে কৃষকের বসতবাড়ির আঙিনাসহ পতিত জমিতে শাকসবজি চাষে সহায়তা হিসেবে কৃষকের বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে বীজ বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়।
আলাইপুর গ্রামের কৃষক মহব্বত আলী শেখ জানান, করোনা সংক্রমণের মধ্যে লকডাউনের কারণে ঘরে অলস বসেছিলাম। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বাড়িতে এসে কয়েক প্রকার সবজির বীজ বিনামূল্যে দিয়ে তা বসতবাড়ির আঙিনায় পতিত জমিতে লাগানোর পরামর্শ দেন। বীজগুলো বসতবাড়ির আঙিনার পতিত জমিতে লাগাই। ইতিমধ্যে এসব বীজ থেকে চারা গজিয়ে তা বড়ো হয়েছে।
আলাইপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান জানান, তিনি করোনা ভাইরাসের মধ্যেই প্রথমে স্ব-উদ্যোগে এবং পরে রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসারের সহযোগিতায় ১৫ জন কৃষক ও কিষানিদের বাড়িতে লালশাক, ডাঁটাশাক, পুঁইশাক, ঢ্যাঁড়শ, গিমাকলমি, লাউ, উচ্ছে ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজির বীজ পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে তিনি এসব কৃষক ও কিষানির বাড়িতে গিয়ে বিতরণকৃত শাকসবজি চাষের কাজ নিয়মিত তদারকি করেন।
রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, রূপসা উপজেলার ১৫টি ব্লকের মধ্যে আলাইপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান সর্ব প্রথম নিজ উদ্যোগে বসতবাড়ির আঙিনায় পতিত জমিতে শাকসবজি চাষে সহায়তা হিসেবে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ বিতরণ শুরু করেন। পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় অন্য ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণও বসতবাড়িতে শাকসবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করছেন।
