ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ২২:১৬

দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ পূর্বাঞ্চলের আরো সাতটি জেলার সঙ্গে সংযোগস্থাপনকারী আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেড়েছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ। এসব সড়ক-মহাসড়কে করোনা মোকাবিলা এবং চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচলসহ যাত্রী ও চালক-শ্রমিকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশের ২১টি ইউনিট। এসব তথ্য জানিয়েছেন হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম পেরিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফসহ আরো সাতটি জেলার সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে গত ১ জুন লকডাউন খুলে দেওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ আগের চেয়ে বহু গুণে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে লকডাউনকালে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা পণ্যবাহী কনটেইনার জট নিরসন এবং ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের গার্মেন্টস পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে শিপমেন্ট করতে এই মহাসড়কে দিনে-রাতে বেড়েছে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিবা ও নৈশ কোচের চলাচলও বেড়েছে। হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের টিম মহাসড়কের যানবাহনে করোনা ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ছয়টি বাসের চালক জানান, ‘করোনা মহামারিতে দেশে লকডাউন ঘোষণার আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিনারায় প্রায় অর্ধশত পয়েন্টে পরিবহন সেক্টরের একাধিক চক্র রীতিমতো অফিস স্থাপন করে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জিবির নামে যানবাহনে প্রকাশ্যে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেছে। এসব চাঁদাবাজের দৌরাত্ম্যে গাড়ির মালিক-শ্রমিকরা অতিষ্ঠ ছিল। লকডাউন পরবর্তী সময়ে হাইওয়ে পুলিশের তত্পরতায় মহাসড়কের সেই চিরচেনা দৃশ্যপট অনেকাংশে পালটে গেছে।

কুমিল্লা জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ফারুক হোসেন সুমন জানান, ‘এ মহাসড়কে প্রতিদিন যারা চাঁদা আদায় করেছে, তারা করোনার প্রভাবে কর্মহীন হওয়া অভাবগ্রস্ত চালক-শ্রমিকদের কোনো সহায়তা দেয়নি। ঐ চক্রটি শ্রমিকদের রক্ত চুষে খেলেও দুঃসময়ে পাশে থাকেনি, অসহায় শ্রমিকদের খোঁজও নেয়নি। বর্তমানে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাইওয়ে পুলিশের টিম কাজ করছে। এমন অভিযান চলমান থাকলে গাড়ির চালক-হেলপার ও যাত্রীরা স্বস্তি পাবে এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’

হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ‘করোনা মোকাবিলা করে সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা, শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রীদের সিটে বসানো, মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালক ও শ্রমিকদের যানবাহন চালানোর জন্য লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া চাঁদাবাজমুক্ত যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স দেখিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এসব কাজে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’