দীর্ঘদিন মেরামত না করায় মানিকগঞ্জ এলজিইডির আওতাধীন জয়রা-গড়পাড়া সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটিতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ ও সাহেরা হাসান মেমোরিয়াল হাসপাতালসহ রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয় জেলার প্রাচীনতম ‘বাংলাদেশ হাটে’। সড়কে সৃষ্টি হওয়া ছোটো ছোটো খানাখন্দগুলো এখন বড়ো বড়ো গর্তে পরিণত হচ্ছে। এটি তলিয়ে ডোবায় পরিণত হয় একটু বৃষ্টি হলেই। ফলে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটে দুর্ঘটনা। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে অচিরেই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
জেলার সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়ন এবং সাটুরিয়া উপজেলাবসীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত প্রায় ১০ কিলোমিটারের এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো তলিয়ে থাকার কারণে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে হাসপাতাল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে যাতায়াতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা। খানাখন্দে ভরা সড়কে দেওয়া পাথরে উলটে যায় রিকশা-ভ্যানের মতো ছোটো যানবাহনও। কোনো কোনো স্থানে হেঁটে চলাও দায়।
যানবাহন চালকরা জানান, সড়ক খারাপ হওয়ার কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যানবাহন। এছাড়া একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ মোড় থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। দ্রুত এ সড়ক সংস্কার না হলে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। ট্রাকচালক মোতালেব মিয়া জানান, প্রায় দুই বছর যাবত এ সড়কে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে চালকরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। দ্রুত এই সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
মানিকগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এ কে এম আনিসুজ্জামান জানান, এরই মধ্যে রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাস এন্টার প্রাইজ কাজটি পেয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে মেরামত কাজ শুরুর কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু হবে।
মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, বেহাল সড়কটির কারণে আমরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। সপ্তাহখানেকের মধ্যে আমরা করোনা পরীক্ষার জন্য পিসি ল্যাব চালু করব। সড়কটির মেরামত না হলে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব সড়কটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।
