নগদ সাড়ে ৩০ লাখ টাকা ও ১১০০ ডলার উদ্ধার

৮০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচ জন গ্রেফতার

আপডেট : ১৫ জুন ২০২০, ০০:৩৩

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাইক্রোবাসে গুলি করে ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস লি. গার্মেন্টসের ৮০ লাখ ২২ হাজার টাকা ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এই চক্রটির কাছ থেকে র্যাব নগদ ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ১ হাজার ১০০ ইউএস ডলার, ডাকাতির কাজে ব্যবহূত মোটরসাইকেল, গাড়ি এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। গত শনিবার ঢাকার মগবাজার, ডেমরা, কড়াইল বস্তি ও সাভারের আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন : দলনেতা  জলিল (৪০), রিয়াজ (৩৬), সাগর মাহমুদ (৪০), ইসমাইল হোসেন ওরফে মামুন (৪৫) ও মনোরঞ্জন মন্ডল ওরফে বাবু (৪১)। গতকাল রবিবার র্যাব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

গ্র্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় চার/পাঁচ মাস আগে চক্রটির মূল হোতা জলিলের পরিকল্পনায় ইসমাইল হোসেন মামুন এবং মনোরঞ্জন মন্ডল বাবু টার্গেট নির্ধারণের কাজ শুরু করে। তারা গাজীপুর, আশুলিয়া, কালিয়াকৈর এলাকায় বেশ কিছু গার্মেন্টসে শ্রমিকদের বেতন সংগ্রহ প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে ইনক্রেডিবল গার্মেন্টসকে টার্গেট করে। মনোরঞ্জন মন্ডল বাবু ঐ গার্মেন্টসের একজন সাব-কন্টাক্টরের কর্মী হিসেবে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ  থেকে আসা-যাওয়া শুরু করে। সে গার্মেন্টসের অন্যান্য কর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী, পার্শ্ববর্তী দোকান ও অন্যান্য সূত্র  থেকে কৌশলে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করে। তারা ডাকাতির জন্য জুনের বেতন সংগ্রহকে টার্গেট করে। চক্রটি মাঠপর্যায়ে রেকি করে ডাকাতির জন্য সুবিধাজনক বিভিন্ন স্থান নির্বাচন করে।

ঘটনার দিন মূল দলটি প্রথমে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে একটি সুবিধাজনক স্থানে মিলিত হয়। মোটরযানের পেছনের আরোহীরা সবাই অস্ত্র বহন করেছিল। এছাড়া সাগর মাহমুদ একটি বড়ো হ্যামার সঙ্গে নেয়। ছিনতাইকৃত টাকা বহনের জন্য একটি প্রাইভেটকার জামগড়া নামক স্থানে অপেক্ষায় রাখে তারা। এরপর ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর কোম্পানির মাইক্রোবাসটি যখন রওয়ানা দেয় তখন তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে তারা মাইক্রোবাসটি অনুসরণ করে। জলিলকে বহনকারী মোটরসাইকেল এবং সাগরের মোটরসাইকেল মাইক্রোবাসের সামনে গিয়ে গতি কমিয়ে দেয়। রিয়াজচালিত  মোটরসাইকেল মাইক্রোবাস থামিয়ে দিয়ে কৌশলে ব্যারিকেড দিয়ে ফেলে। ফলে বেতন বহনকারী মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণ থেমে যায়।

অন্য সদস্যরা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে মাইক্রোবাসের গ্লাস ভেঙে দেয়। মাইক্রোবাসের সামনে গ্লাস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। একটি গুলি গার্মেন্টসের কর্মী রাজীব মজুমদার শুভর (২৮) গলায় লাগে এবং তিনি গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে তারা মাইক্রোবাসের ভিতরে থাকা লোকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি ৫/১০ মিনিটের মধ্যে সংঘটিত হয়। ঘটনাস্থলে ডাকাতদের এলোপাতাড়ি গোলাগুলির ফলে তাদের দলের মূল হোতা জলিল হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সে দুই দিন চিকিত্সাধীন ছিল।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, মূলত ৮/১০ জনের একটি সিন্ডিকেট এই ডাকাতির ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এরা সবাই পেশাদার অপরাধী। এই দলের মূল হোতা জলিলের বিরুদ্ধে বরিশালের বাবুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাসহ ছিনতাই, প্রতারণাসহ নানা অপরাধের মামলা রয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে ২০১৬ সালে সে বিদেশ চলে যায়।  সাত-আট মাস আগে দেশে ফিরে আসে। এছাড়া সাগরের নামে ঢাকার পল্টন, বনশ্রী, চকবাজার, সূত্রাপুরসহ বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার পটুয়াখালী জেলা শহরে একটি মিষ্টির দোকান আছে। সাগরের অন্যতম সহযোগী মো. রিয়াজ। সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ইসমাইল হোসেন মামুন ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রবাসে ছিল। ঐ সময়ে জলিলের সঙ্গে পরিচয় হয়। মামুনের নামে ডলার প্রতারণার মামলা আছে। অপরদিকে মনোরঞ্জন মন্ডল বাবুু পেশায় একজন দর্জি ছিল। তিনি মূলত সিন্ডিকেটের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করেন।